অমুসলিমদের কোরআনের শিক্ষা দেওয়া বৈধ কিনা?

অমুসলিমদের কোরআনের শিক্ষা দেওয়া বৈধ কিনা?

অমুসলিমদের কোরআনের শিক্ষা দেওয়া বৈধ কিনা?

             💫بسم الله الرحمن الرحيم💫

⁦☀️⁩نحمده تبارك و تعالي و نصلي و نسلم على رسوله الاعلى أما بعد-⁦⁦☀️

⁦✍️⁩সম্মানিত মুসলিম সমাজ!! প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব হলো, ইসলামের বার্তা অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এই দায়িত্ব পালনের জন্যই যুগে যুগে আউলিয়ায়ে কেরাম দেশ থেকে দেশান্তরে গমন করেছেন এবং গোটা বিশ্বে ইসলামের বার্তা প্রচার ও প্রসার করেছেন। বলতে গেলে সে সমস্ত আউলিয়ায়ে কেরাম যদি কোরআনের বার্তা ভারতবর্ষে না নিয়ে আসতেন তাহলে আজকে হয়তো আমরাও ইসলামের আলো থেকে বঞ্চিত থাকতাম।
পূর্বের আউলিয়ায়ে কেরামের এই ধরনের ইসলামের তাবলীগ থেকে আমরা স্পষ্টই বুঝতে পারি যে অমুসলিমদের কাছে কোরআনের শিক্ষা ও বার্তা পৌঁছানো অপরাধের কিছু নয় বরং এটি ইসলামের একটি দায়িত্ব পালন করা। অতএব কোন অমুসলিম যদি কুরআনের শিক্ষা নিতে চায় অথবা কোন মুসলিম যদি অমুসলিমকে কোরআনের শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায় তাহলে অবশ্যই তা করা উচিত এবং সেটা নাজায়েজ ও গুনাহ হবে না বরং জায়েজ ও পুণ্যের কাজ বলে গণ্য হবে।
ইমাম আবু আইয়ুব ইউসুফ বিন আলী জুরজানি হানাফী আলাইহির রহমান উল্লেখ করেন-
” قال ابوحنیفۃ : اعلم النصرانی القرآن والفقہ لعل اللہ یھدیہ “
অর্থাৎ!! ইমাম আবু হানিফা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইরশাদ করেন, আমি নাসারা কেউ কোরআন ও ফিক্বহ শাস্ত্রের শিক্ষা প্রদান করব। হয়তো আল্লাহ তাআলা তার মাধ্যমে তাকে হেদায়েত প্রদান করবেন।
{📙خزانۃالاکمل ج٣ ص٤٧٩ ، دارالکتب العلمیۃ}
ইমাম জাহিরুদ্দিন আব্দুর রশিদ ওয়ালা-ওয়ালজী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
*” النصرانی اذا تعلم القرآن یعلم لانہ عسی ان یھتدی
নাসরানী ব্যক্তি কে যখন তুমি কোরআনের শিক্ষা প্রদান করবে তখন সে কোরআনের শিক্ষা লাভ করবে যার মাধ্যমে হয়তো সে হেদায়েত প্রাপ্ত হবে।
{📕فتاوی ولوالجیہ ج٢ ص٣١٩ ، دارالکتب العلمیۃ}
ফাকীহুন নফ্স ইমাম কাজী খান রাহমাতুল্লাহি ইরশাদ করেন-
” کافرمن اہل الذمۃ اومن اہل الحرب طلب من مسلم ان یعلمہ القرآن اوالفقہ قالوا: لاباس بان یعلمہ القرآن والفقہ فی الدین لانہ عسی ان یھتدی الی الاسلام فیسلم الا ان الکافر لایمس المصحف “
জিম্মি অথবা হারবী কাফের কোন মুসলমানের কাছে যদি কোরান অথবা ফিকাহ শাস্ত্রের শিক্ষা অর্জন করতে চায় তাহলে, ফাক্বীহ গণ বলেন, তাকে কোরআন অথবা ফিকাহ শাস্ত্রের শিক্ষা প্রদান করতে কোন সমস্যা নেই। কারণ হয়তো সেই ব্যক্তি এই শিক্ষার কারণে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম গ্রহণ করবে। তবে হ্যাঁ কোন কাফের কোরআন স্পর্শ করবে না।
{📓فتاوی قاضیخان ج٣ ص٣٣١ ، دارالکتب العلمیۃ}
*(📗 খাযানাতুল মুফতিঈন এর মধ্যে রয়েছে,
” واذا قال الکافرلمسلم علمنی القرآن فلاباس بان یعلمہ لکن لایمس المصحف وان اغتسل ومسہ فلاباس بہ “
যখন কোন কাফির ব্যক্তি মুসলিম ব্যক্তিকে বলবে আমাকে কোরআন এর শিক্ষা প্রদান করো তখন তাকে কোরআনের শিক্ষা দিতে কোন সমস্যা নেই তবে সেই কাফের ব্যক্তি কোরআন স্পর্শ করবেনা। হ্যাঁ যদি সে স্নান করে স্পর্শ করতে চায় তাহলে করতে পারে সে ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না।
{📘بحوالہ فتاوی ملک العلماء ص٣١٠ ، مطبوعہ المجمع الرضوی بریلی شریف}
আল্লামা শাহ মুহাম্মদ জাফরউদ্দিন কাদরী রেজভী বিহারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি উক্ত গ্রন্থে আরো বলেন-
” اسے (یعنی ہندوکو) قرآن مجیدپڑھانا گناہ نہیں بلکہ امیدثواب ہے شایداللہ تعالی اس کےطفیل اسےہدایت عطافرمائے “
অর্থাৎ হিন্দুদের কে কোরআন মাজীদের শিক্ষা প্রদান করা গুনা নয় বরং নেকির আশা রয়েছে।‌ কারণ হয়তো আল্লাহ তাআলা সেই শিক্ষার বদৌলতে সে ব্যক্তি কে হেদায়াত প্রদান করবেন।
{📕فتاوی ملک العلماء ص٣١٠}
⁦✍️⁩⁦মুফতি আমজাদ হোসাইন সিমনানী প্রেসিডেন্ট সুন্নি মিশন✍️⁩
💥 থানা- কুশমন্ডি, জেলা- দক্ষিন দিনাজপুর, রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, ভারত💥
নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE & HOLY-WAY TEAM

সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন www.keyofislam.com

আমাদের Real Sunni TvHoly way ইউটিউব চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন

Leave a Reply

This Post Has 9 Comments

  1. Moni

    Khub sundor

  2. Abdullah

    Good step go ahead always 🙂

  3. Amjad husain

    Jazaakallah khaira bro

  4. Sabir ahammed

    Alhamdulliah

  5. Sabir sk

    Nice post

  6. Md Noor Alsm

    পোস্ট টা পড়তে খুব ভাল লাগলো হুজুর

  7. Noor Alam qadri

    খুব সুন্দর একটা পোস্ট করেছেন

  8. Noor Alam qadri

    প্রয়োজনীয় লিখনী