আজানের উত্তর কিভাবে দিবেন

আজানের উত্তর কিভাবে দিবেন

আজানের উত্তর কিভাবে দিবেন

✴️সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! বহু মানুষ আযানের উত্তর দিতে জানেন না তারা শুধু আজানে নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর নাম শুনে আঙ্গুল চুম্বন করে বাকি উত্তরগুলো দেওয়া থেকে বিরত থাকেন অথচ হাদীস শরীফের মধ্যে আজানের উত্তর দেওয়া বহু ফজিলত এসেছে। এবং আজানের উত্তর দেওয়ার সঠিক নিয়ম হলো- মুআজ্জিন যে সমস্ত বাক্য উচ্চারণ করবে আজান শ্রবণকারীও সে সমস্ত বাক্য উচ্চারণ করবে শুধু “হাইয়্যা আলাস সলা-হ” ও “হাইয়্যা ‘আলাল লাফা-হ” এর জবাবে সে “লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ” পাঠ করবে। নিম্নে এ সম্পর্কে কিছু হাদিস প্রদত্ত হলো- যা থেকে আপনি সঠিকভাবে আযানের উত্তর দেওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারবেন।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ‏”‏
অর্থাৎ! হযরত আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমরা আযান শুনতে পাবে, তখন মুয়াযযিন যা বলে তোমরাও তাই বল।
{{ সুনান তিরমিজি হাদিস নং- ,, সহীহ মুসলিম হাদিস নং-874,, সহীহ বুখারী হাদিস নং-611,, মুআত্তা মালিক হাদিস নং-148,, মুসনাদে আহমদ হাদিস নং-11504,, সুনানে দারেমী হাদিস নং-1237 }}
✴️ ইমাম তিরমিজি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
অর্থাৎ! হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসটি হাসান ও সহীহ সনদে বর্ণিত।
ﻋﻦ ﻋﺒﺪ اﻟﻠﻪ ﺑﻦ اﻟﺤﺎﺭﺙ، ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ: ” ﺃﻥ اﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﻣﺜﻞ ﻣﺎ ﻳﻘﻮﻝ اﻟﻤﺆﺫﻥ، ﻓﺈﺫا ﻗﺎﻝ: ﺣﻲ ﻋﻠﻰ اﻟﺼﻼﺓ ﺣﻲ ﻋﻠﻰ اﻟﻔﻼﺡ، ﻗﺎﻝ: «ﻻ ﺣﻮﻝ ﻭﻻ ﻗﻮﺓ ﺇﻻ ﺑﺎﻟﻠﻪ
অর্থাৎ হযরত হাফেজ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত নিশ্চয়ই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম মুআজ্জিনের ন্যায় বাক্যগুলো পাঠ করতেন অতঃপর যখন মুআজ্জিন “হাইয়্যা আলাস সলা-হ” ও “হাইয়্যা ‘আলাল লাফা-হ” পাঠ করতেন তখন তিনি “লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ” পাঠ করতেন।
{{ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা খন্ড 6 পৃষ্ঠা 97 হাদিস নং-29775,, মুসনাদে আহমদ হাদিস নং-23866 }}
عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ‏.‏ فَقَالَ أَحَدُكُمُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ‏.‏ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ ‏.‏ قَالَ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ ‏.‏ قَالَ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ‏.‏ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ‏.‏ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ‏.‏ مِنْ قَلْبِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ ‏”‏ ‏
অর্থাৎ! হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মুওয়াযযিন যখন “আল্লাহু আকবার, আল্লা-হু আকবার” বলে তখন তোমাদের কোন ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে তার জবাবে বলেঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”। যখন মুওয়াযযিন বলে “আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” এর জবাবে সেও বলেঃ “আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ” এর জবাবে সে বলেঃ “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ”। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ “হাইয়্যা আলাস সলা-হ” এর জবাবে সে বলেঃ “লা-হাওলা ওয়ালা- কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ”। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ “হাইয়্যা ‘আলাল লাফা-হ” এর জবাবে সে বলেঃ “লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ”। অতঃপর মুওয়াৰ্যযিন বলেঃ “আল্লা-হু আকবার, আল্লাহু আকবার” এর জবাবে সে বলেঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”। অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” এর জবাবে সে বলেঃ “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”। আযানের এ জবাব দেয়ার কারণে সে বেহেশতে যাবে।
{{ সহীহ মুসলিম হাদিস নং-876,, সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং-527 }}
💥 আযানের পর আগে দরুদ তারপর দু’য়া পাঠ করবেন💥
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَىَّ فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَىَّ صَلاَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا ثُمَّ سَلُوا اللَّهَ لِيَ الْوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لاَ تَنْبَغِي إِلاَّ لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ لِيَ الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ ‏”‏
অর্থাৎ! হযরত আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা যখন মুওয়াযযিনকে আযান দিতে শুন, তখন সে যা বলে তোমরা তাই বল। অতঃপর আমার উপর দুরূদ পাঠ কর। কেননা, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তা’আলা এর বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমাত বর্ষণ করেন। অতঃপর আমার জন্যে আল্লাহর কাছে ওয়াসীলাহ প্রার্থনা কর। কেননা, ওয়াসীলাহ জান্নাতের একটি সম্মানজনক স্থান। এটা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একজনকেই দেয়া হবে। আমি আশা করি, আমিই হব সে বান্দা। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্যে ওয়াসীলাহ প্রার্থনা করবে তার জন্যে (আমার) শাফাআত ওয়াজিব হয়ে যাবে।
{{ সহীহ মুসলিম হাদিস নং-875,, মুসনাদে আহমদ হাদিস নং-6568,, সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং-523 }}
✴️وما توفيقي الا بالله العلي العظيم و الصلاة والسلام على حبيبه الكريم صلى الله عليه وسلم✴️
✍️
⁦✍️⁩⁦মুফতী আমজাদ হোসাইন সিমনানী প্রেসিডেন্ট সুন্নি মিশন✍️⁩ পরিচালক:- সিমনানী রিসার্চ সেন্টার✍️
🌍 থানা- কুশমন্ডি, জেলা- দক্ষিন দিনাজপুর, রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, ভারত🌍
নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE & HOLY-WAY TEAM

সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন www.keyofislam.com

আমাদের Real Sunni TvHoly way ইউটিউব চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন

আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

This Post Has 5 Comments

  1. Abdullah

    Nice post 👍

  2. Humayun k

    Jazaakallah khaira for uploading this post

  3. Kaneez

    Give more informative message about Islam.