আমীন আস্তে ও নিম্নস্বরে পাঠ করার প্রমাণাদি

আমীন আস্তে ও নিম্নস্বরে পাঠ করার প্রমাণাদি

আমীন আস্তে ও নিম্নস্বরে পাঠ করার প্রমাণাদি

وَقَالَ عَطَاءٌ آمِينَ دُعَاءٌ
অর্থাৎ! হযরত‘আত্বা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমীন’ হল দু‘আ।
{{ সহীহ বুখারী }}
✴️ফাক্বীহগণ একমত যে, দু’আ নিচু শব্দে ও নিম্নস্বরে করাটাই উত্তম যেমন আল্লামা ইমাম বাদরুদ্দীন আইনী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ইরশাদ করেন-
ﻭﻗﺎﻟﻮا ﺃﻳﻀﺎ: ﺁﻣﻴﻦ ﺩﻋﺎء، ﻭاﻷﺻﻞ ﻓﻲ اﻟﺪﻋﺎء اﻹﺧﻔﺎء.
অর্থাৎ! ফাক্বীহগণ বলেন, ‘আমীন’ হল দু’আ আর দু’আর মূল পদ্ধতি হলো নিম্নস্বরে পাঠ করা।
{{ উমদাতুল কারী খন্ড-6 পৃষ্ঠা-52 }}
✴️আল্লাহ তাআলা কুরআন মজীদে ইরশাদ করেন-
اُدۡعُوۡا رَبَّکُمۡ تَضَرُّعًا وَّ خُفۡیَۃً ؕ اِنَّہٗ لَا یُحِبُّ الۡمُعۡتَدِیۡنَ
অনুবাদ:-  স্বীয়  রবের   দরবারে    দো’আ   প্রার্থনা  করো বিনীতভাবে এবং গোপনে।  নিশ্চয় সীমাতিক্রমকারীগণ তাঁর নিকট পছন্দনীয় নয়।
{{ সূরা আরাফ আয়াত নং-55 }}
✴️ তাছাড়া সূরা ফাতিহা সমাপ্ত করার পর নিম্নস্বরে ও নিচু শব্দে ‘আমীন’ পাঠ সংক্রান্ত বহু হাদিস বিদ্যমান তন্মধ্যে কিছু নিম্নে তুলে ধরা হলো-
ﻋﻦ ﻋﻠﻘﻤﺔ ﺑﻦ ﻭاﺋﻞ، ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ، ﺃﻥ اﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺮﺃ: {ﻏﻴﺮ اﻟﻤﻐﻀﻮﺏ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﻻ اﻟﻀﺎﻟﻴﻦ}
، ﻓﻘﺎﻝ: ﺁﻣﻴﻦ ﻭﺧﻔﺾ ﺑﻬﺎ ﺻﻮﺗﻪ.
অর্থাৎ! হযরত আলকামা রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজ পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম {ﻏﻴﺮ اﻟﻤﻐﻀﻮﺏ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﻻ اﻟﻀﺎﻟﻴﻦ} পাঠ করলেন। অতঃপর নীচু স্বরে আমীন’ বললেন।”
{{ সুনানে তিরমিজি হাদিস নং-249,, জামেউল মাসানিদ ওয়াস সুনানে হাদিস নং-10623,, উমদাতুল কারী 6/51,, হাবিসুস সিরাজ 2/103 হাদিস নং-429,, জামেউল উসূল 5/331 হাদিস নং-3428,, যুযো ক্বিরাতিন নাবী লি-হাফস বিন উমার পৃষ্ঠা-61 হাদিস নং-11,, সুনানে কুবরা বাইহাকী 2/83 হাদিস নং-2447}}
(( হাদীসটির সনদ হাসান))
ﻋﻦ ﻭاﺋﻞ، ﻭﻗﺪ ﺳﻤﻌﺘﻪ ﻣﻦ ﻭاﺋﻞ، ﺃﻧﻪ ﺻﻠﻰ ﻣﻊ اﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻠﻤﺎ ﻗﺮﺃ {ﻏﻴﺮ اﻟﻤﻐﻀﻮﺏ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﻻ اﻟﻀﺎﻟﻴﻦ} ﻗﺎﻝ: «ﺁﻣﻴﻦ» ﺧﻔﺾ ﺑﻬﺎ ﺻﻮﺗﻪ ﻭﻭﺿﻊ ﻳﺪﻩ اﻟﻴﻤﻨﻰ ﻋﻠﻰ ﻳﺪﻩ اﻟﻴﺴﺮﻯ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻦ ﻳﻤﻴﻨﻪ ﻭﻋﻦ ﻳﺴﺎﺭﻩ
অর্থাৎ: হযরত ওয়ায়েল রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু সালামের সহিত নামাজ আদায় করলেন। নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম {ﻏﻴﺮ اﻟﻤﻐﻀﻮﺏ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﻻ اﻟﻀﺎﻟﻴﻦ} পাঠ করে নিচু শব্দে ‘আমীন’ পাঠ করলেন (সেই নামাজে) তিনি নিজের ডান হাতকে বাম হাতের ওপর রাখলেন ও সালাম ফিরানোর সময় ডান ও বাম উভয় দিকে সালাম ফিরালেন।
{{ মুসনাদ আবু দাউদ তাইয়ালিসী খন্ড-2 পৃষ্ঠা-360 হাদিস নং-1117 }}
ﻋﻦ ﻭاﺋﻞ اﻟﺤﻀﺮﻣﻲ، ﺃﻧﻪ ﺻﻠﻰ ﺧﻠﻒ اﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻠﻤﺎ ﻗﺎﻝ: ” {ﻭﻻ اﻟﻀﺎﻟﻴﻦ} ﻗﺎﻝ: «ﺁﻣﻴﻦ» ﻓﺃﺧﻔﻰ ﺑﻬﺎ ﺻﻮﺗﻪ، ﻭﻭﺿﻊ ﻳﺪﻩ اﻟﻴﻤﻨﻰ ﻋﻠﻰ ﻳﺪﻩ اﻟﻴﺴﺮﻯ ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻦ ﻳﻤﻴﻨﻪ، ﻭﻋﻦ ﻳﺴﺎﺭﻩ “
অর্থাৎ!! হযরত ওয়াইল হাজরামি রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয়ই তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু সালামের পিছনে নামায আদায় করলেন অতএব যখন নবী পাক সাল্লাল্লাহু সাল্লাম {ﻭﻻ اﻟﻀﺎﻟﻴﻦ} পাঠ করলেন। নিচু শব্দে ‘আমীন’ পাঠ করলেন। (সেই নামাজে) নিজের ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখেছিলেন এবং ডান ও বাম উভয় দিকে সালাম ফিরেছিলেন।
{{ মু’জামে কারীর তাবরানী হাদিস নং-109-110,, মুসনাদ আহমাদ হাদিস নং-18854,, উমদাতুল কারী খন্ড-6 পৃষ্ঠা-50 }}
✴️মুসনাদ আহমাদ গ্রন্থে আরও লিপিবদ্ধ রয়েছে-
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻋﺒﺪ اﻟﺮﺣﻤﻦ ﻗﺎﻝ: ﻭﻗﺎﻝ ﺷﻌﺒﺔ: ﻭﺧﻔﺾ ﺑﻬﺎ ﺻﻮﺗﻪ
অর্থাৎ! হযরত আব্দুর রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হযরত শো’বা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, তিনি (নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিম্নস্বরে ‘আমীন’ পাঠ করলেন।
{{ মুসনাদে আহমদ হাদিস নং-18843 }}
ﻋﻦ ﻭاﺋﻞ ﺑﻦ ﺣﺠﺮ , ﻗﺎﻝ: ﺻﻠﻴﺖ ﻣﻊ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﺴﻤﻌﺘﻪ ﺣﻴﻦ ﻗﺎﻝ: ” {ﻏﻴﺮ اﻟﻤﻐﻀﻮﺏ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﻻ اﻟﻀﺎﻟﻴﻦ} , ﻗﺎﻝ: «ﺁﻣﻴﻦ» ﻭﺃﺧﻔﻰ ﺑﻬﺎ ﺻﻮﺗﻪ , ﻭﻭﺿﻊ ﻳﺪﻩ اﻟﻴﻤﻨﻰ ﻋﻠﻰ اﻟﻴﺴﺮﻯ , ﻭﺳﻠﻢ ﻋﻦ ﻳﻤﻴﻨﻪ ﻭﻋﻦ ﺷﻤﺎﻟﻪ. ﻛﺬا ﻗﺎﻝ ﺷﻌﺒﺔ: ﻭﺃﺧﻔﻰ ﺑﻬﺎ ﺻﻮﺗﻪ
অর্থাৎ!! হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর সহিত নামাজ আদায় করলাম। আমি তাঁকে {ﻏﻴﺮ اﻟﻤﻐﻀﻮﺏ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﻻ اﻟﻀﺎﻟﻴﻦ} (সূরা ফাতিহা সমাপ্ত অংশ) পাঠ করে আস্তে ‘আমীন’ পাঠ করতে শুনলাম। (সেই নামাজে) তিনি নিজের ডান হাত বাম হাতের উপর রেখেছিলেন এবং ডান ও বাম উভয় দিকে সালাম ফিরেছিলেন।
{{ সুনানে দারে কুতনী 2/128 হাদিস নং-1270,, উমদাতুল কারী খন্ড-6 পৃষ্ঠা-50 }}
ﻋﻦ ﻋﻠﻘﻤﺔ ﺑﻦ ﻭاﺋﻞ، ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ، ﺃﻧﻪ ﺻﻠﻰ ﻣﻊ اﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺣﻴﻦ ﻗﺎﻝ: {ﻏﻴﺮ اﻟﻤﻐﻀﻮﺏ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﻻ اﻟﻀﺎﻟﻴﻦ} ﻗﺎﻝ: «ﺁﻣﻴﻦ» ﻳﺧﻔﺾ ﺑﻬﺎ ﺻﻮﺗﻪ “
অর্থাৎ! হযরত আলকামা বিন ওয়ায়েল রাদিয়াল্লাহু আনহুমা নিজ পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু সালামের সহিত নামাজ আদায় করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম {ﻏﻴﺮ اﻟﻤﻐﻀﻮﺏ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﻻ اﻟﻀﺎﻟﻴﻦ} পাঠ করে ‘আমীন’ বললেন এবং নিচু শব্দে ‘আমীন’ পাঠ করলেন।
{{ আল মুসতাদরাক খন্ড-2 পৃষ্ঠা-253 হাদিস নং-2913,, উমদাতুল কারী খন্ড-6 পৃষ্ঠা-50 }}
✴️ইমাম হাকিম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি হাদিসটি উল্লেখ করে ইরশাদ করেন-
ﻫﺬا ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ ﻋﻠﻰ ﺷﺮﻁ اﻟﺸﻴﺨﻴﻦ، ﻭﻟﻢ ﻳﺨﺮﺟﺎﻩ
অর্থাৎ! উক্ত হাদিসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম রাহমাতুল্লাহি আলাইহিমা-এর শর্তানুযায়ী সহীহ। যদিও তারা বোখারী ও মুসলিম গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করেননি।
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻭاﺋﻞ، ﻗﺎﻝ: «ﻛﺎﻥ ﻋﻠﻲ، ﻭاﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﻻ ﻳﺠﻬﺮاﻥ ﺑﺒﺴﻢ اﻟﻠﻪ اﻟﺮﺣﻤﻦ اﻟﺮﺣﻴﻢ، ﻭﻻ ﺑﺎﻟﺘﻌﻮﺫ، ﻭﻻ ﺑﺂﻣﻴﻦ»
অর্থাৎ! হযরত আবু ওয়াইল রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আলী ও ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বিসমিল্লাহ, আউযুবিল্লাহ ও আমীন জোরে ও উচ্চস্বরে পাঠ করতেন না।
{{ মু’জামে কারীর তাবরানী হাদিস নং-9304,, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ হাদিস নং-2632 }}
ﻭﻣﻨﻬﺎ: ﻣﺎ ﺭﻭﻯ اﻟﻄﺒﺮﻱ ﻓﻲ ” ﺗﻬﺬﻳﺐ اﻻﺛﺎﺭ”: ﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﺑﻜﺮﺑﻦ ﻋﻴﺎﺵ،ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻌﻴﺪ، ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻭاﺋﻞ ﻗﺎﻝ: ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻋﻤﺮ ﻭﻋﻠﻲ ﻳﺠﻬﺮاﻥ ﺑﺒﺴﻢ اﻟﻠﻪاﻟﺮﺣﻤﻦ اﻟﺮﺣﻴﻢ ﻭﻻ ﺑﺂﻣﻴﻦ.
অর্থাৎ! হযরত আবু ওয়াইল রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত উমার এবং হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা বিসমিল্লাহ এবং আমীনকে উচ্চস্বরে পাঠ করতেন না।
{{শারহু আবু দাউদ আইনী খন্ড-4 পৃষ্ঠা-194,, উমদাতুল কারী খন্ড-6 পৃষ্ঠা-52,, আল জাওহারুন নাকী খন্ড-2 পৃষ্ঠা-48,, কানযুল উম্মাল হাদিস নং-22102,, তাখরিজু আহাদিসুল ইহইয়া খন্ড-1 পৃষ্ঠা-398}
ﻭﺭﻭﻳﻨﺎ ﻋﻦ ﻋﺒﺪ اﻟﺮﺣﻤﻦ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻟﻴﻠﻰ ﻗﺎﻝ: ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ اﻟﺨﻄﺎﺏ: يخفي اﻹﻣﺎﻡ ﺃﺭﺑﻌﺎ -: اﻟﺘﻌﻮﺫ، ﻭﺑﺴﻢ اﻟﻠﻪ اﻟﺮﺣﻤﻦ اﻟﺮﺣﻴﻢ، ﻭﺁﻣﻴﻦ، ﻭﺭﺑﻨﺎ ﻟﻚ اﻟﺤﻤﺪ.
অর্থাৎ! হযরত আব্দুর রহমান দিন আবু লাইলা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, চারটি জিনিস ইমাম নিম্নস্বরে পাঠ করবেন যথা- আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, আমীন এবং রব্বানা লাকাল হামদ।
{{ আল মুহাল্লা বিল আসার খন্ড-2 পৃষ্ঠা-280,, আল-বেনায়া শারহুল হেদাইয়া খন্ড-2 পৃষ্ঠা-196 }}
ﻋﻦ ﺇﺑﺮاﻫﻴﻢ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮ: ﺃﺭﺑﻊ ﻳﺨﻒﻳﻦ ﻋﻦ اﻹﻣﺎﻡ اﻟﺘﻌﻮﺫ ﻭﺑﺴﻢ اﻟﻠﻪ اﻟﺮﺣﻤﻦ اﻟﺮﺣﻴﻢ ﻭﺁﻣﻴﻦ ﻭاﻟﻠﻬﻢ ﺭﺑﻨﺎ ﻟﻚ اﻟﺤﻤﺪ (اﺑﻦ ﺟﺮﻳﺮ)
অর্থাৎ! বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত ইব্রাহিম নাখয়ী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত উমর রাযিআল্লাহু তা’আলা আনহু বলতেন, চারটি জিনিস ইমাম থেকে নিম্নস্বরে পাঠ করতে হবে। যথা- আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, আমীন এবং আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ
{{ জামেউল আহাদীস হাদিস নং-28154 }}
ﻋﻦ ﻣﻌﻤﺮ، ﻋﻦ ﺣﻤﺎﺩ، ﻋﻦ ﺇﺑﺮاﻫﻴﻢ ﻗﺎﻝ: ” ﺃﺭﺑﻊ ﻳﺨﻔﻴﻬﻦ اﻹﻣﺎﻡ: ﺑﺴﻢ اﻟﻠﻪ اﻟﺮﺣﻤﻦ اﻟﺮﺣﻴﻢ، ﻭاﻻﺳﺘﻌﺎﺫﺓ، ﻭﺁﻣﻴﻦ، ﻭﺇﺫا ﻗﺎﻝ: ﺳﻤﻊ اﻟﻠﻪ ﻟﻤﻦ ﺣﻤﺪﻩ ﻗﺎﻝ: ﺭﺑﻨﺎ ﻟﻚ اﻟﺤﻤﺪ
অর্থাৎ! বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম ইব্রাহিম নাখয়ী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, চারটি জিনিস ইমাম নিম্নস্বরে পাঠ করবেন। যথা- বিসমিল্লাহ, আউযুবিল্লাহ, আমীন এবং রব্বানা লাকাল হামদ।
{{ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক খন্ড-2 পৃষ্ঠা-87 হাদিস নং-2596 }}
{{ কানযুল উম্মাল হাদিস নং-22893,, শারহু আবু দাউদ আইনী খন্ড-4 পৃষ্ঠা-194,, নাসবুর রা’ইয়াহ খন্ড-1 পৃষ্ঠা-315,, আল-বেনাইয়া শারহুল হেদাইয়া খন্ড-2 পৃষ্ঠা-196 }}
ﺣﺪﺛﻨﺎ ﻭﻛﻴﻊ، ﻋﻦ ﺳﻔﻴﺎﻥ، ﻋﻦ ﻣﻨﺼﻮﺭ، ﻋﻦ ﺇﺑﺮاﻫﻴﻢ، ﻗﺎﻝ: ” ﺧﻤﺲ ﻳﺨﻔﻴﻬﻦ اﻹﻣﺎﻡ: اﻻﺳﺘﻌﺎﺫﺓ، ﻭﺳﺒﺤﺎﻧﻚ اﻟﻠﻬﻢ ﻭﺑﺤﻤﺪﻙ، ﻭﺑﺴﻢ اﻟﻠﻪ اﻟﺮﺣﻤﻦ اﻟﺮﺣﻴﻢ، ﻭﺁﻣﻴﻦ، ﻭاﻟﻠﻬﻢ ﺭﺑﻨﺎ ﻟﻚ اﻟﺤﻤﺪ “
অর্থাৎ! প্রখ্যাত তাবেয়ী ইমাম ইব্রাহিম নাখয়ী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এরশাদ করেন- পাঁচটি জিনিস ইমাম নিম্নস্বরে পাঠ করবেন। যথা- আউজুবিল্লাহ, সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বি-হামদিকা, বিসমিল্লাহ, আমীন এবং আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ।
{{ মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা খন্ড-2 পৃষ্ঠা-267 হাদিস নং-8849,, মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক হাদিস নং-2597,, আল মুহাল্লা বিল আসার খন্ড-2 পৃষ্ঠা-280,, নাসবুর রাইয়াহ খন্ড-1 পৃষ্ঠা-326,, শারহু আবু দাউদ আইনী খন্ড-4 পৃষ্ঠা-194 }}
ﻭاﺧﺘﻠﻒ ﻓﻴﻪ ﻋﻦ اﻷﻭﺯاﻋﻲ، ﻓﺤﻜﻰ اﻟﻮﻟﻴﺪ ﺑﻦ ﻣﺴﻠﻢ ﻋﻨﻪ ﺃﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻳﺮﻯ اﻟﺠﻬﺮ ﺑﺂﻣﻴﻦ، ﻭﺣﻜﻰ ﻋﻨﻪ اﻟﻮﻟﻴﺪ ﺑﻦ ﻳﺰﻳﺪ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ: ﺧﻤﺲ ﻳﺨﻔﻴﻬﻦ اﻹﻣﺎﻡ، ﻓﺬﻛﺮ ﺁﻣﻴﻦ.
অর্থাৎ বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত ইমাম আউযায়ী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর ব্যাপারে এই প্রসঙ্গে মতভেদ রয়েছে। ওয়ালিদ বিন মুসলিম তাঁর প্রসঙ্গে বলেন, তিনি জোরে আমিন বলার পক্ষে ছিলেন কিন্তু ওয়ালিদ বিন ইয়াযিদ রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন, তিনি বলতেন পাঁচটি জিনিস ইমাম নিচু শব্দে ও নিম্নস্বরে পাঠ করবেন তন্মধ্যে আমীন কেউ উল্লেখ করতেন।
{{ আল আওসাত ফি সুনান খন্ড-3 পৃষ্ঠা-231 }}
🌻 প্রমাণিত বিষয়াদি ✨
১,, ইমাম ও মুক্তাদী উভয় ‘আমীন’ পাঠ করবেন
২,, ‘আমীন’ পাঠ করার সময় ‘মাদ’ অর্থাৎ শব্দ দীর্ঘ করতে হবে অর্থাৎ ‘আমিন’ বলা যাবে না ‘আমীন’ বলতে হবে।
৩,, ‘আমীন’ পাঠের সময় শব্দকে নিচু রাখতে হবে অর্থাৎ নিম্নস্বরে ‘আমীন’ পাঠ করতে হবে।
৪,, নিম্নস্বরে ‘আমীন’ পাঠ করা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত।
৫,, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম গণো নিচু শব্দে ও নিম্নস্বরে ‘আমীন’ পাঠ করতেন।
💥 নিচু শব্দে ও নিম্নস্বরে ‘আমীন’ পাঠ করা সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন ও তার সমাধান💥
☀️১,,প্রশ্ন:- কি বোখারী শরীফের মধ্যে ‘আমীন’ জোরে পাঠ করার হাদিস রয়েছে?
🌷উত্তর:- বোখারী শরীফের মধ্যে আমিন জোরে পাঠ করার প্রকাশ্য কোন হাদিস নেই বরং ইমাম বুখারী একটি হাদিস কে উল্লেখ করে তা থেকে জোরে আমিন পাঠ করার প্রমাণ করতে চেয়েছেন তবে ইমাম আবু হানিফা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর মতে সেই হাদিস থেকে জোরে আমিন পাঠ করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়না কারণ হল সে হাদীসে বলা হয়েছে ইমাম যখন আমিন পাঠ করবে তখন তোমরা আমিন বল এখান থেকে জোরে আমিন বলার কোনো প্রমাণ নেই কারণ ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য ছিল যে ইমাম যদি আসতে পার করে তাহলে মুক্তাদী শুনতে পাবে না সুতরাং নবী করীম সাল্লাল্লাহু সালামের এই হাদীসের উপর আমল করতে গেলে জোরে আমিন পাঠ করতে হবে কিন্তু এই দলিল প্রযুক্তি সঠিক নয় কারণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু সালামের হাদিস বুখারী শরীফে বর্নিত হয়েছে সেখানে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন ইমাম কোন সময় আমিন পাঠ করবে অথবা কোন সময় আমিন পাঠ করতে হবে সেখানে বলা হয়েছে যখন ইমাম সূরা ফাতিহার সমাপ্ত করবে তখন তোমরা আমিন বল যদি ইমাম বুখারীর যুক্তি সঠিক হয় তাহলে দ্বিতীয় হাদিস থেকে এটা বলাও সঠিক হবে যে আমীন আস্তে পার করতে হবে কারণ যদি আমীন জোরে পাঠ করা জরুরি হতো তাহলে সেখানে সুরা ফাতেহা পাঠ সমাপ্ত করার কথা উল্লেখ করার কোন প্রয়োজন ছিল না।
☀️প্রশ্ন:- ইমাম তিরমিজি কি আসতে ‘আমীন’ পাঠ করার হাদীসকে জয়ীফ, দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন?
🌷উত্তর:- ইমাম তিরমিজি আস্তে আমিন পাঠ করা সংক্রান্ত হাদিস কে দুর্বল ও অগ্রহণযোগ্য বলেননি বরং দুই হাদিসের মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে বলেছেন যে, ইমাম সুফিয়ান সাওরি রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর হাদীসটি ইমাম শো’বা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর হাদিস অপেক্ষা ‘اصح’ শব্দটি প্রয়োগ করেছেন যার অর্থ হলো- বেশি মজবুত ও বেশি সহীহ। আর এ কথা স্বল্প জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিরো জানা যে, বেশি মজবুত ও বেশি সহীহ কথাটির মোকাবেলায় মজবুত ও সহীহ প্রয়োগ হয় আর মজবুত ও সহীহ কথাটির মোকাবেলায় দুর্বল ও গায়ের-সহীহ প্রয়োগ হয়। অতএব প্রমাণিত হলো, ইমাম তিরমিজি আস্তে আমিন পাঠ করা সংক্রান্ত হাদিস কেউ মজবুত ও সহীহ বলেছেন দুর্বল নয়।
☀️প্রশ্ন:-কি ইমাম তিরমিজি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি সুনান তিরমিজি গ্রন্থে জোরে আমিন পাঠ করা সংক্রান্ত প্রকাশ্য কোন হাদিস নিয়ে এসেছেন?
🌷উত্তর:- ইমাম তিরমিজি রাহমতুল্লাহি আলাইহি সুনানে তিরমিজি গ্রন্থে জোরে ও উচ্চস্বরে ‘আমীন’ পাঠ করা সংক্রান্ত প্রকাশ্য কোন হাদিস নিয়ে আসেন নি, তিনি উচ্চস্বরে আমিন পাঠ করার পক্ষে এমন একটি হাদিস নিয়ে এসেছেন যেখানে জোরে ‘আমীন’ পাঠ করার সুস্পষ্ট কোন শব্দ নেই। বরং যদি সেই হাদিসের সঠিকভাবে পর্যালোচনা করা যায় তাহলে সেই হাদিস থেকেও আস্তে ‘আমীন’ পাঠ করার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিছু মানুষ সেই হাদিসের বাংলা তরজমা করতে গিয়ে নিজের তরফ থেকে ‘উচ্চ’ ও ‘জোরে’ শব্দ গুলি ব্যবহার করেছেন যার ফলে বাংলা শিক্ষিত ব্যক্তিরা সঠিক তথ্য পেতে ব্যর্থ হচ্ছে হচ্ছেন।
আলোচ্য হাদীসটির সঠিক আরবিক ও বাংলা অর্থ হলো নিম্নরূপ।
عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ‏:‏ ‏(‏غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ‏)‏ فَقَالَ ‏”‏ آمِينَ ‏”‏ ‏.‏ وَمَدَّ بِهَا صَوْتَهُ
অর্থাৎ! হযরত ওয়াইল ইবনু হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে “‏غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ‏” পাঠ করতে এবং আমীন’ বলতে শুনেছি। ‘আমীন’ বলতে গিয়ে তিনি নিজের কণ্ঠস্বর দীর্ঘ করলেন।
{{ সুনানে তিরমিজি }}
💫وما توفيقي الا بالله العلي العظيم و الصلاة والسلام على حبيبه الكريم صلى الله عليه وسلم💫
✍️
⁦✍️⁩⁦মুফতী আমজাদ হোসাইন সিমনানী প্রেসিডেন্ট সুন্নি মিশন✍️⁩ পরিচালক:- সিমনানী রিসার্চ সেন্টার✍️
🌍 থানা- কুশমন্ডি, জেলা- দক্ষিন দিনাজপুর, রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, ভারত🌍
নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE & HOLY-WAY TEAM

সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন www.keyofislam.com

আমাদের Real Sunni TvHoly way ইউটিউব চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন

আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

This Post Has 7 Comments

  1. Abdullah

    Khun important topic
    Thanks

  2. عبد الله

    جزاك الله خيرا على هذا العمل الصالح

  3. Amjad husain simnani

    Jazaakallah khaira for uploading this post in your site.

  4. Anonymous

    Khub sundor aalochona

  5. Nure simna

    Good information

  6. Simna

    Jazaakallahu khaira