ওলীমা অনুষ্ঠানে গান-বাজনা হলে অংশগ্রহণ করা বৈধ কিনা?

ওলীমা অনুষ্ঠানে গান-বাজনা হলে অংশগ্রহণ করা বৈধ কিনা?

ওলীমা অনুষ্ঠানে গান-বাজনা হলে অংশগ্রহণ করা বৈধ কিনা?

         💥بسم الله الرحمن الرحيم💥
⁦☀️⁩সম্মানিত মুসলিম সমাজ! আগেই আলোচনা হয়েছে, ওলিমা করা নবী কারীম সাল্লাহু সালাম এর সুন্নত এবং ওলিমার দাওয়াত গ্রহণ করা জরুরি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যেহেতু বেশিরভাগ ও অধিকাংশ ওলিমা ও বিবাহ অনুষ্ঠানে গান বাজনা ডিজে ইত্যাদি একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে। তাই এই বিষয়ে কিছু আলোচনা করার অবশ্যই প্রয়োজন মনে করি। যদিও ওলিমা অনুষ্ঠানে যাওয়া এবং ওলিমার দাওয়াত গ্রহণ করা জরুরি কিন্তু যে সমস্ত ওলিমা অনুষ্ঠানে গান-বাজনা অথবা ডিজে ব্যবহার করা হয় সে সমস্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা জায়েজ নয়। কারণ গান-বাজনা ইত্যাদি শরীয়তের দৃষ্টিতে পুরোপুরি হারাম ও নাজায়েজ কর্ম। জানা সত্ত্বেও এ সমস্ত জায়গায় গেলে আপনার গুনাহ হবে। এই মর্মে কিছু হাদিস ও ফাক্বীহ গণের কিছু মন্তব্য নিম্নে প্রদত্ত হলো।
🖋️فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ أَمَّا هَذَا فَقَدْ قَضَى مَا عَلَيْهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ((مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ)).
অর্থাৎ! আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু ওঠে বললেন, ঐ ব্যক্তি তার কর্তব্য পালন করেছে। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ যদি অন্যায় কাজ দেখে, তাহলে সে যেন হাত দ্বারা এর সংশোধন করে দেয়। যদি এর ক্ষমতা না থাকে, তাহলে মুখের দ্বারা, যদি তাও সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তর দ্বারা (উক্ত কাজকে ঘূণা করবে), আর এটাই ঈমানের নিম্নতম স্তর।
{{ সহীহ মুসলিম হাদিস নং-186,, }}
{{সুনান আবু দাউদ হাদিস নং-4342,,}}
{{সুনান তিরমিযী হাদিস নং-2327,,}}
{{সুনান নাসাঈ হাদিস নং-5025,,}}
{{সুনান ইবনে মাজাহ হাদিস নং-4149 }}
(( হাদীসটি সহীহ ও বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে))
🖋️عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَا مِنْ قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِي هُمْ أَعَزُّ مِنْهُمْ وَأَمْنَعُ لاَ يُغَيِّرُونَ إِلاَّ عَمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابٍ ‏”‏ ‏.‏
অর্থাৎ!! জারীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে পাপাচার হতে থাকে এবং তাদের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ক্ষমতা থাকা সত্বেও তাদের পাপাচারীদের বাধা দেয় না, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর ব্যাপকভাবে শাস্তি পাঠান।
{{ সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নং4145 }}
{{ মুসনাদে আহমদ হাদিস নং-19253 }}
{{ মূজামে ইবনুল আরাবী হাদিস নং-894 }}
{{ সহীহ ইবনে হিব্বান হাদিস নং-300}}
{{ মুজমে কাবির তাবরানী হাদিস নং-2382 }}
{{ ‌সুনান কোবরা বায়হাকী হাদিস নং-20192 }}
(( হাদীসটি বিভিন্ন গ্রন্থে হাসান সূত্রে বর্ণিত হয়েছে))
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ مُرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ قَبْلَ أَنْ تَدْعُوا فَلاَ يُسْتَجَابَ لَكُمْ ‏”‏ ‏.‏
অর্থাৎ! আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা সৎকাজের আদেশ দিবে এবং মন্দ কাজে বাধা দিবে এমন সময় আসার পূর্বে যখন তোমরা দোয়া করবে কিন্তু তা কবুল হবে না।
{{ সুনান ইবনে মাজাহ হাদিস নং-4139 }}
{{ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদিস-37745}}
{{ মুসনাদে ইসহাক হাদিস নং-1795 }}
{{ মুসনাদুল ফেরদাউস হাদিস নং-6525 }}
{{ আত তারগীব হাদিস নং-295 }}
{{ আল মাতালিবুল আলিয়া হাদিস নং-3289}}
((হাদীসটি হাসান ও সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে))
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ لاَ يَحْقِرْ أَحَدُكُمْ نَفْسَهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَحْقِرُ أَحَدُنَا نَفْسَهُ قَالَ ‏”‏ يَرَى أَمْرًا لِلَّهِ عَلَيْهِ فِيهِ مَقَالٌ ثُمَّ لاَ يَقُولُ فِيهِ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَقُولَ فِي كَذَا وَكَذَا فَيَقُولُ خَشْيَةُ النَّاسِ ‏.‏ فَيَقُولُ فَإِيَّاىَ كُنْتَ أَحَقَّ أَنْ تَخْشَى ‏”‏ ‏.‏
অর্থাৎ! আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন নিজেকে অপমানিত না করে। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ নিজেকে কিভাবে অপমানিত করতে পারে? তিনি বলেনঃ সে কোন বিষয়ে আল্লাহর বিধান অবহিত থাকা সত্বেও তার পরিপন্থী কিছু হতে দেখেও সে সম্পর্কে কিছুই বললো না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলবেনঃ অমুক অমুক ব্যাপারে কথা বলতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিলো? সে বলবে, মানুষের ভয়। তখন আল্লাহ বলবেনঃ আমাকেউ তো তোমার ভয় করা উচিত ছিলো।
((সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নং-4144 }}
{{ইহয়াউ উলুমিদ্দীন খন্ড-4, পৃষ্ঠা-145}}
{{ আত তারগীব মুনযিরী হাদিস নং-3489 }}
((ইমাম গাজ্জালী রহমতুলা আলাহি বলেন, হাদিসটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে))
ভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত ফাক্বীহ ইমাম সাদরূশ শারিয়াহ রাহমাতুল্লাহ আলাইহি এ প্রসঙ্গে তার “বাহারে শরীয়ত” শীর্ষক গ্রন্থের ইরশাদ করেন-
دعوت میں جانا اس وقت سنت ہے جب معلوم ہو کہ وہاں گانا بجانا، لہو و لعب نہیں ہے اور اگر معلوم ہے کہ یہ خرافات وہاں ہیں تو نہ جائے۔ جانے کے بعد معلوم ہوا کہ یہاں لغویات ہیں ، اگر وہیں یہ چیزیں ہوں تو واپس آئے اور اگر مکان کے دوسرے حصے میں ہیں جس جگہ کھانا کھلایا جاتا ہے وہاں نہیں ہیں تو وہاں بیٹھ سکتا ہے اور کھا سکتا ہے پھر اگر یہ شخص ا ن لوگوں کو روک سکتا ہے تو روک دے اور اگر اس کی قدرت اسے نہ ہو تو صبر کرے۔
অর্থাৎ! ওলীমার দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা তখন সুন্নত যখন এটা জানা থাকবে যে, সেখানে কোন গান-বাজনা বা খেল-তামাশা ইত্যাদি হারাম ও নাজায়েজ কাজ হচ্ছে না। যদি আগে থেকেই জানা থাকে যে, সেখানে এসমস্ত হারাম ও নাজায়েজ কাজ হচ্ছে তাহলে সেই দাওয়াতে অংশগ্রহণ করবে না। আর যদি যাওয়ার পর জানতে পারে তাহলে দেখতে হবে যে, সে সমস্ত কাজ ওখানে হচ্ছে না অন্য কোথাও? যদি যেখানে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে সেখানেই হয় তাহলে ফিরে আসবে আর যদি দূরে অন্য কোথাও হয় তাহলে বসতে ও খেতে পারে। যদি সেই ব্যক্তি তাদের কে বাধা প্রদান করতে পারে তাহলে বাধা দেবে আর যদি বাধা প্রদান করতে সক্ষম না হয় তাহলে সবুর করবে।
{{ বাহারে শরীয়ত খন্ড 16 পৃষ্ঠা 395 }}
তিনি অন্যত্র আরো বলেন-
یہ اس صورت میں ہے کہ یہ شخص مذہبی پیشوا نہ ہو اور اگر مقتدیٰ و پیشوا ہو، مثلاً علما و مشایخ، یہ اگر نہ روک سکتے ہوں تو وہاں سے چلے آئیں نہ وہاں بیٹھیں نہ کھانا کھائیں اور پہلے ہی سے یہ معلوم ہو کہ وہاں یہ چیزیں ہیں تو مقتدیٰ ہو یا نہ ہو کسی کو جانا جائز نہیں اگرچہ خاص اُس حصۂ مکان میں یہ چیزیں نہ ہوں بلکہ دوسرے حصہ میں ہوں ۔ {’’الہدایۃ‘‘،کتاب الکراہیۃ، فصل في الأکل والشرب، ج۲، ص۳۶۵۔ و’’الدرالمختار‘‘،کتاب الحظر والإباحۃ ج۹، ص۵۷۴}
অর্থাৎ! উপরোক্ত মাস্-আলা টি হলো সাধারণ ব্যক্তির জন্য। কিন্তু যদি সে অনুসরণীয় ব্যক্তি বা ধর্মীয় নেতা হয় যেমন ওলামা কেরাম ও মাশাইখে এযাম, তাহলে তারা যদি সে সমস্ত নাজায়েজ কাজ বন্ধ করতে সক্ষম না হন তাহলে সেখানে তারা বসবেন না আর না আহার করবেন, বরং ফিরে চলে আসবেন।
আর যদি আগে থেকেই জানা থাকে যে, সেখানে কোন নাজায়েজ ও হারাম কাজ হচ্ছে তাহলে এক্ষেত্রে সাধারণ ব্যক্তি হোক অথবা ধর্মীয় নেতা সবার জন্য সেই দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা নাজায়েজ হবে। যদিও সেই সমস্ত কাজ খাওয়ানোর স্থানে না করে অন্য কোন সাইডে করে থাকে।
{{ বাহারে শরীয়ত খন্ড 16 পৃষ্ঠা 395,,
اگر وہاں لہوو لعب ہو اور یہ شخص جانتا ہے کہ میرے جانے سے یہ چیزیں بند ہوجائیں گی تو اس کو اس نیت سے جانا چاہیے کہ اس کے جانے سے منکراتِ شرعیہ روک دیے جائیں گے اور اگر معلوم ہے کہ وہاں نہ جانے سے ان لوگوں کو نصیحت ہوگی اور ایسے موقع پر یہ حرکتیں نہ کریں گے، کیونکہ وہ لوگ اس کی شرکت کو ضروری جانتے ہیں اور جب یہ معلوم ہوگا کہ اگر شادیوں اور تقریبوں میں یہ چیزیں ہوں گی تو وہ شخص شریک نہ ہوگا تو اس پر لازم ہے کہ وہاں نہ جائے تاکہ لوگوں کو عبرت ہو اور ایسی حرکتیں نہ کریں ۔ {الفتاوی الہندیۃ‘‘،کتاب الکراہیۃ،الباب الثاني عشر في الہدایا والضیافات،ج۵،ص۳۴۳}
অর্থাৎ! যদি সেখানে গান-বাজনা অথবা খেল-তামাশা হয় আর সেই ব্যাক্তি জানতে পারে যে, আমার যাওয়ার কারণে সেসব নাজায়েজ কাজ বন্ধ হয়ে যাবে তাহলে, তার সেই নিয়তি সেখানে যাওয়া জায়েজ হবে। কারণ তার যাওয়ার কারণে হারাম কর্মসমূহ বন্ধ হয়ে যাবে। আর যদি জানা থাকে যে, সে সেখানে না গেলে সেসব নাজায়েজ কর্ম বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ তারা তার অংশগ্রহণকে আবশ্যিক মনে করে। অতএব যখন তারা বুঝবে যে, বিবাহ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে এসমস্ত নাজায়েজ কাজ করলে সে ব্যক্তি অংশগ্রহণ করবে না এক্ষেত্রে তার ওপর জরুরি হলো ওখানে না যাওয়া। যাতে তারা ইবরত হাসিল করে এবং সেই সমস্ত কর্ম থেকে বিরত থাকে।
{{ বাহারে শরীয়ত খন্ড 16 পৃষ্ঠা 395
✴️প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আপনারা অবশ্যই জ্ঞাত হয়েছেন যে, বর্তমান সময়ে যেভাবে বিবাহ অনুষ্ঠানে গান বাজনা ও খেল-তামাশা ইত্যাদি হচ্ছে এ সমস্ত বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা কোন প্রকৃত মুমিন বান্দার কাজ নয়। আর যদি সে সেই সমস্ত নাজায়েজ ও অবৈধ কর্ম সমূহ কোন কৌশল অবলম্বন করে বন্ধ করতে পারে তাহলে তা বন্ধ করা তার ওপর জরুরি হবে।
🤲 আল্লাহ তাআলা সমস্ত মুসলিম ভাই বোনদের উপরোক্ত মাস্আলাটির উপর আমল করার তৌফিক দান করুন!! এবং বিবাহ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলোকে নাজায়েজ ও বিদআত মুক্ত করার শক্তি প্রদান করুন!! আমীন!!
وما توفيقي الا بالله العلي العظيم و صلى الله تعالي على رسوله الكريم
✍️ মুফতি আমজাদ হোসাইন সিমনানী প্রেসিডেন্ট সুন্নি মিশন✍️
💌 থানা- কুশমন্ডি, জেলা- দক্ষিন দিনাজপুর রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, ভারত💌
নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE & HOLY-WAY TEAM

সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন www.keyofislam.com

আমাদের Real Sunni TvHoly way ইউটিউব চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন

আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

This Post Has 4 Comments

  1. Abdullah

    Jazaakallah khaira for uploading this type of article.

  2. Kaneez

    Khub sundor o proyojonio post.

  3. Amjad husain simnani

    All of you are interested to read this article very carefully and act upon it.
    Please don’t forget to comment.