জামাআতের সহিত নামাজ আদায়ের ফজিলত

জামাআতের সহিত নামাজ আদায়ের ফজিলত

জামাআতের সহিত নামাজ আদায়ের ফজিলত

عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ((مَنْ تَوَضَّأَ لِلصَّلاَةِ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ فَصَلاَّهَا مَعَ النَّاسِ أَوْ مَعَ الْجَمَاعَةِ أَوْ فِي الْمَسْجِدِ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ ذُنُوبَهُ))
অর্থাৎ! হযরত উসমান ইবনু আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামাজ আদায়ের জন্যে পরিপূর্ণরূপে ওযু করে ফরয নামাজ আদায়ের উদ্দেশে (মাসজিদে) যায় এবং লোকেদের সাথে, অথবা জামা’আতের সাথে, অথবা মসজিদের মধ্যে নামাজ আদায় করে, আল্লাহ তার গুনাসমূহকে মাফ করে দিবেন।
{{ সহীহ মুসলিম হাদিস নং-571,, সুনানে নাসাঈ হাদিস নং-856,, সুনানে কুবরা নাসাঈ হাদিস নং-931,, মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানা হাদিস নং-1528,, সুনানে কুবরা বাইহাকী হাদিস নং-385 }}
أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((صَلاَةُ الرَّجُلِ فِي الْجَمَاعَةِ تُضَعَّفُ عَلَى صَلاَتِهِ فِي بَيْتِهِ وَفِي سُوقِهِ خَمْسًا وَعِشْرِينَ ضِعْفًا، وَذَلِكَ أَنَّهُ إِذَا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ لاَ يُخْرِجُهُ إِلاَّ الصَّلاَةُ، لَمْ يَخْطُ خَطْوَةً إِلاَّ رُفِعَتْ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ، وَحُطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ، فَإِذَا صَلَّى لَمْ تَزَلِ الْمَلاَئِكَةُ تُصَلِّي عَلَيْهِ مَا دَامَ فِي مُصَلاَّهُ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ، اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ. وَلاَ يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرَ الصَّلاَةَ))
অর্থাৎ! হযরত আবূ হুরাইরাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তির জামা‘আতের সাথে নামাজের সাওয়াব, তার নিজের ঘরে ও বাজারে আদায়কৃত নামাজের সাওয়াবের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণ এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযূ করলো, অতঃপর একমাত্র নামাজের উদ্দেশে মসজিদে রওয়ানা করল তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। নামাজ আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ নামাজের স্থানে থাকে, ফেরেশতাগণ তার জন্য এ বলে দু‘আ করতে থাকেন – ‘‘হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।’’ আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ নামাজের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে নামাজে রত বলে গণ্য হয়।
{{ সহীহ বুখারী হাদিস নং-647,, মিশকাতুল মাসাবিঃ হাদিস নং-702 }}
عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَعْظَمُ النَّاسِ أَجْرًا فِي الصَّلاَةِ أَبْعَدُهُمْ فَأَبْعَدُهُمْ مَمْشًى، وَالَّذِي يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ حَتَّى يُصَلِّيَهَا مَعَ الإِمَامِ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنَ الَّذِي يُصَلِّي ثُمَّ يَنَامُ
অর্থাৎ! হযরত আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (মসজিদ হতে) যে যত অধিক দূরত্ব অতিক্রম করে নামাজে আসে, তার তত অধিক পুণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে নামাজ আদায় করা পর্যন্ত অপেক্ষা করে, তার পুণ্য সে ব্যক্তির চেয়ে অধিক, যে একাকী নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে।
{{ সহীহ বুখারী হাদিস নং-651,, মুসনাদুল বাজ্জার হাদিস নং-3166,, সহীহ ইবনে খুযাইমা হাদিস নং-1501,, মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানা হাদিস নং-1275,, সুনানে সাগীর বাইহাকী হাদিস নং-476,, কানযুল উম্মাল হাদিস নং-20227 }}
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ عَلَى صَلاَةِ الرَّجُلِ وَحْدَهُ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً ‏”‏ ‏ وفى رواية “صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاَةِ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً”
অর্থাৎ! হযরত ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির একাকি আদায়কৃত নামাজের উপর জামা’আতে আদায়কৃত নামাজের সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদা রয়েছে।
{{ সুনানে তিরমিজি হাদিস নং-215 ,, সহীহ বুখারী হাদিস নং-649,, সহীহ মুসলিম হাদিস নং-1509,, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদিস নং-8392,, মুআত্তা মালিক হাদিস নং-288,, সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নং-838,, সুনানে নাসাঈ হাদিস নং-837,, মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানা হাদিস নং-1249 }}
✴️ ইমাম তিরমিজি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
অর্থাৎ! ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি হাসান ও সহীহ।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِنَّ صَلاَةَ الرَّجُلِ فِي الْجَمَاعَةِ تَزِيدُ عَلَى صَلاَتِهِ وَحْدَهُ بِخَمْسَةٍ وَعِشْرِينَ جُزْءًا ‏”‏ ‏
অর্থাৎ! হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তির জামা’আতের নামায তার একাকি নামাযের তুলনায় পচিশ গুণ (সাওয়াব) বৃদ্ধি পায়।
{{ সুনানে তিরমিজি হাদিস নং-216,, মুআত্তা মালিক হাদিস নং-289,, সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নং-836,, মুসনাদে আহমদ হাদিস নং-10305,, মুসনাদুস সিরাজ হাদিস নং-643,, সুনানে কুবরা বাইহাকী হাদিস নং-4957 }}
✴️ ইমাম তিরমিজি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏
অর্থাৎ! উক্ত হাদীসটি হাসান ও সহীহ।
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ شَهِدَ الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ لَهُ قِيَامُ نِصْفِ لَيْلَةٍ وَمَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ وَالْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ لَهُ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ ‏”‏ ‏
অর্থাৎ! হযরত উসমান ইবনু আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামা’আতের সাথে আদায় করে তার জন্য অর্ধরাত (নফল) নামাজ আদায়ের সাওয়াব রয়েছে। যে ব্যক্তি ইশা ও ফযরের নামাজ জামা’আতের সাথে আদায় করে তার জন্য সারারাত (নফল) নামাজ আদায়ের সমপরিমাণ সাওয়াব রয়েছে।
{{ সুনানে তিরমিজি হাদিস নং-221,, মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক খন্ড 1 পৃষ্ঠা 525 হাদিস নং-2008,, মুসনাদে আহমদ হাদিস নং-491,, সুনানে দারেমী হাদিস নং-1260,, সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং-555,, মুসনাদুল বাজ্জার হাদিস নং-403,, মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানা হাদিস নং-1254 }}
✴️ ইমাম তিরমিজি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
حَدِيثُ عُثْمَانَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
অর্থাৎ হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি হাসান।
✴️সম্মানিত মুসলিম সমাজ! উপরে উল্লেখিত হাদিস সমূহ হতে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি যে, কোন ব্যক্তির একাকী নামাজ আদায় না করে যদি জামাআতের সহিত নামাজ আদায় করে তাহলে সে সাতাশ গুণ অথবা পচিশ গুণ বেশি সাওয়াবের অধিকারী হবে। ফাক্বীহগণ বলেছেন, প্রত্যেক পুরুষের জন্য জামাতের সহিত নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। অকারনে ইচ্ছাকৃত বারবার জামাত পরিত্যাগ করা গুনাহ এবং জামাআত পরিত্যাগকারী ব্যক্তি কে ফাসিক বলে গণ্য করা হবে।
🤲 আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল মুসলিম ভাইদের কে জামায়াতের সহিত নামাজ আদায় করার শক্তি প্রদান করুন!! আমীন!!
💫وما توفيقي الا بالله العلي العظيم و الصلاة والسلام على حبيبه الكريم صلى الله عليه وسلم💫
⁦✍️⁩⁦মুফতী আমজাদ হোসাইন সিমনানী প্রেসিডেন্ট সুন্নি মিশন✍️⁩ পরিচালক:- সিমনানী রিসার্চ সেন্টার✍️
🌍 থানা- কুশমন্ডি, জেলা- দক্ষিন দিনাজপুর, রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, ভারত🌍
নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE & HOLY-WAY TEAM

সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন www.keyofislam.com

আমাদের Real Sunni TvHoly way ইউটিউব চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন

আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

This Post Has 3 Comments

  1. Sabir Ahammed

    Alhamdulliah

  2. Kaneez

    Jazaakallah khaira

  3. Humayun k

    Nice job 👍