তাশাহুদ পাঠের সময় শুধু একবার ইশারা করতে হবে বারবার আঙ্গুল নাড়াচাড়া ও ওঠানামা করা যাবে না

তাশাহুদ পাঠের সময় শুধু একবার ইশারা করতে হবে বারবার আঙ্গুল নাড়াচাড়া ও ওঠানামা করা যাবে না

তাশাহুদ পাঠের সময় শুধু একবার ইশারা করতে হবে বারবার আঙ্গুল নাড়াচাড়া ও ওঠানামা করা যাবে না

অনেক মানুষকে দেখা যায় তাশাহুদ পাঠ করার সময় আঙ্গুলকে বারবার নাড়াচাড়া করতে থাকে কিন্তু সহীহ হাদিসের আলোকে উক্ত কর্মটি হল সুন্নত পরিপন্থী। সুন্নত তরিকা হলো- তাশাহুদের সময় শাহাদাতের আঙ্গুল দ্বারা একবার ইশারা করা। শাহাদাতের আঙ্গুলকে বারবার নাড়াচাড়া করা ও ওঠানামা করা হল মাকরূহ। যা নিম্নোক্ত হাদিস সমূহ ও ইমামগণের মন্তব্য হতে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয়।
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا قَعَدَ يَدْعُو وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنى عَلى فَخِذِهِ الْيُمْنى وَيَدَهُ الْيُسْرى عَلى فَخِذِهِ الْيُسْرى وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ وَوَضَعَ إِبْهَامَهٗ عَلى إِصْبَعِهِ الْوُسْطى وَيُلْقِمُ كَفَّهُ الْيُسْرى رُكْبَتَه
অর্থাৎ! আবদুল্লাহ ইবনুয্ যুবায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশাহুদ অর্থাৎ- আত্তাহিয়্যাতু পড়ার জন্য বসলে নিজের ডান হাত ডান রানের উপর এবং বাম হাত বাম রানের উপর রাখতেন। শাহাদাত আঙ্গুল উঠিয়ে ইশারা করতেন। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বৃদ্ধা আঙ্গুল মধ্যমা আঙ্গুলের নিকটে রাখতেন। বাম হাতের তালু দিয়ে বাম হাঁটু জড়িয়ে ধরতেন।
{{ সহীহ মুসলিম হাদিস নং-1336 }}
{{ সুনানে দারে কুতনী হাদিস নং-1324 }}
{{ শারহুস সুন্নাহ খন্ড-3 পৃষ্ঠা-176 }}
{{ মিশকাতুল মাসাবিঃ হাদিস নং-908}}
عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُعَاوِيِّ قَالَ رَآنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَأَنَا أَعْبَثُ بِالْحَصَى فِي الصَّلاَةِ فَلَمَّا انْصَرَفَ نَهَانِي وَقَالَ اصْنَعْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ. فَقُلْتُ وَكَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْنَعُ قَالَ: كَانَ إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلاَةِ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَقَبَضَ أَصَابِعَهُ كُلَّهَا وَأَشَارَ بِأُصْبُعِهِ الَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى.
অর্থাৎ! আলী ইবনু ‘আবদুর রহমান আল-মু‘আবী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে নামাজের মধ্যে নুড়ি পাথর দিয়ে অনর্থক নাড়াচাড়া করতে দেখলেন। অতঃপর যখন তার নামাজ শেষ হলো তিনি আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজে যা করতেন তুমিও তাই করবে। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজে কি করতেন? তিনি বললেন, নামাজরত অবস্থায় তিনি যখন বসতেন তখন তাঁর ডান হাতের তালু ডান উরুর উপর রাখতেন এবং সব আঙ্গুল বন্ধ করে রাখতেন আর বৃদ্ধাঙ্গুলির পাশের (শাহাদাত) অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করতেন, আর বাম হাতের তালু বাম পায়ের উরুর উপর রাখতেন।
{{ সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং-989 }}
{{ সহীহ মুসলিম হাদিস নং-1339 }}
{{ মুসনাদে আহমদ হাদিস নং-5331 }}
{{ সুনানে কোবরা নাসাঈ হাদিস নং-1191 }}
{{ সহীহ ইবনে হিব্বান হাদিস নং-1942 }}
{{ সুনানে কুবরা বাইহাকী হাদিস নং-2779 }}
عَبَّاسُ بْنُ سَهْلٍ السَّاعِدِيُّ، قَالَ اجْتَمَعَ أَبُو حُمَيْدٍ وَأَبُو أُسَيْدٍ وَسَهْلُ بْنُ سَعْدٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَذَكَرُوا صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَلَسَ – يَعْنِي – لِلتَّشَهُّدِ فَافْتَرَشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَأَقْبَلَ بِصَدْرِ الْيُمْنَى عَلَى قِبْلَتِهِ وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُمْنَى وَكَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَأَشَارَ بِأُصْبَعِهِ يَعْنِي السَّبَّابَةَ ‏
অর্থাৎ! আব্বাস ইবনু সাহল আস-সায়িদী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত। তিনি বললেন, একবার আবূ হুমায়দ, আবূ উসায়দ, সাহল ইবনু সা’দ এবং মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা রাদিয়াল্লাহু আনহুম একত্রিত হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামাজ সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তখন আবূ হুমায়দ বললেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামাজ সম্পর্কে আমি সবচেয়ে ভাল জ্ঞাত আছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাশাহ্হুদের জন্য বসেছিলেন তখন বাম পা বিছিয়ে দিয়েছিলেন এবং ডান পায়ের অগ্রভাগ (আঙ্গুলিসমূহ) কিবলার দিকে স্থাপন করেছিলেন। ডান হাতের তালু ডান হাঁটুতে এবং বাম হাতের তালু বাম হাঁটুতে স্থাপন করেছিলেন আর শাহাদাত আঙ্গুলির মাধ্যমে (একবার) ইশারা করেছিলেন।
{{ সুনানে তিরমিযী হাদিস নং-
{{ সহীহ ইবনে খুযাইমাহ হাদিস নং-689 }}
{{ সহীহ ইবনে হিব্বান হাদিস নং-1871 }}
{{ সুনানে কুবরা বাইহাকী হাদিস নং-2774 }}
{{শারহুস সুন্নাহ খন্ড-3 পৃষ্ঠা-171 }}
✴️ইমাম তিরমিজি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এরশাদ করেন- وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ অর্থাৎ! হাদিসটি হাসান ও সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ ذَكَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُشِيرُ بِأُصْبُعِهِ إِذَا دَعَا وَلاَ يُحَرِّكُهَا. قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ وَزَادَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَامِرٌ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو كَذَلِكَ وَيَتَحَامَلُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى.
অর্থাৎ! হযরত আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সলাতে দু‘আ পাঠকালে আঙুল দ্বারা ইশারা করতেন, অবশ্য আঙুল নাড়তেন না।
ইবনু জুরাইজ বলেন, ‘আমর ইবনু দীনারের বর্ণনায় একথাও আছে যে, ‘আমির তাকে জানান যে, তার পিতা ‘আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে দু‘আর সময় আঙুল দ্বারা ইশারা করতে দেখেছেন এবং তখন তিনি তাঁর বাম হাত বাম উরুর উপর রাখতেন।
{{ সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং-991 }}
{{ সুনানে কুবরা নাসাঈ হাদিস নং-1194 }}
{{ সুনানে নাসাঈ হাদিস নং- 1278 }}
{{ মুস্তাখরাজ আবু আওয়ানা হাদিস নং-2019 }}
{{ শারহুস সুন্নাহ খন্ড-3 পৃষ্ঠা-177 }}
{{ মিশকাত শরীফ হাদিস নং-912 }}
{{ আদ-দুআ তাবরানী হাদিস নং-638 }}
{{ মুজামে কাবীর তাবরানী খন্ড-14 পৃষ্ঠা-199 }}
{{ মারেফাতুস সুনান হাদিস নং-3652 }}
✴️ মুসলিম শরীফের প্রখ্যাত ভাষ্যকার ইমাম নাবাবী হাদিসটির প্রসঙ্গে এরশাদ করেন-
ﺭﻭاﻩ ﺃﺑﻮ ﺩاﻭﺩ ﺑﺈﺳﻨﺎﺩ ﺻﺤﻴﺢ
অর্থাৎ! হাদিসটি ইমাম আবু দাউদ সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।
{{ মাজমুয় শারহুল মুহায্যাব খন্ড-3 পৃষ্ঠা-454 }}
✴️আহলে হাদীসদের বিখ্যাত মুহাদ্দিস শাইখ শুয়াইব আরনাউত হাদিসটির প্রসঙ্গে বলেন- ﻭﻫﺬا ﺇﺳﻨﺎﺩ ﺣﺴﻦ، অর্থাৎ হাদিসটি হাসান সনদে বর্ণিত হয়েছে।
{{ তাখরীজুল মুসনাদ 31/163 }}
✴️ তাছাড়া ‘তোহফাতুল আহওয়াজি’-এর মধ্যে হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলা হয়েছে- ﺇﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ অর্থাৎ হাদিসটি সহীহ।
{{ তোহফাতুল আহওয়াজি খন্ড-2 পৃষ্ঠা-160 }}
ﻋﻦ اﺑﻦ ﺟﺮﻳﺞ ﻗﺎﻝ: ﺣﺪﺛﺖ، ﻋﻦ ﻋﺎﻣﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ اﻟﻠﻪ ﺑﻦ اﻟﺰﺑﻴﺮ، «ﺃﻥ اﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻛﺎﻥ ﻳﺸﻴﺮ ﺑﺈﺻﺒﻌﻪ ﺇﺫا ﺩﻋﺎ ﻻ ﻳﺤﺮﻛﻬﺎ
অর্থাৎ! হযরত ইবনে জুরাইজ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাদিস বর্ণনা করেছি আমির বিন আবদুল্লাহ হতে যে, নিশ্চয়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজে (তাশাহুদের) দু‘আ পাঠকালে আঙুল দ্বারা একবার ইশারা করতেন, আঙুল নাড়াচাড়া করতে না।
{{ মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক হাদিস নং- 3242 }}
ﻋﻦ ﻧﺎﻓﻊ ﻋﻦ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺃﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﻳﻀﻊ ﻳﺪﻩ اﻟﻴﻤﻨﻰ ﻋﻠﻰ ﺭﻛﺒﺘﻪ اﻟﻴﻤﻨﻰ ﻭﻳﺪﻩ اﻟﻴﺴﺮﻯ ﻋﻠﻰ ﺭﻛﺒﺘﻪ اﻟﻴﺴﺮﻯ ﻭﻳﺸﻴﺮ ﺑﺈﺻﺒﻌﻪ ﻭﻻ ﻳﺤﺮﻛﻬﺎ ﻭﻳﻘﻮﻝ ﺇﻧﻬﺎ ﻣﺬﺑﺔ اﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﻭﻳﻘﻮﻝ ﻛﺎﻥ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻔﻌﻠﻪ
অর্থাৎ! হযরত নাফে রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। হযরত ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু ডান হাতটি তাঁর ডান হাঁটুর উপর এবং বাম হাতটি বাম হাঁটুর উপরে রাখতেন এবং আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন এবং তা নড়াতেন না। এবং তিনি বলতেন, এটি শয়তানের কর্ম। তিনি বলতেন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।
{{আস-সিকাত ইবনে হিব্বান হাদিস নং-10863}}
ﻋﻦ ﻫﺸﺎﻡ ﺑﻦ ﻋﺮﻭﺓ، «ﺃﻥ ﺃﺑﺎﻩ ﻛﺎﻥ ﻳﺸﻴﺮ ﺑﺈﺻﺒﻌﻪ ﻓﻲ اﻟﺪﻋﺎء ﻭﻻ ﻳﺤﺮﻛﻬﺎ
অর্থাৎ! হযরত হিশাম রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তাঁর পিতা হযরত উরোয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু তাশাহুদের সময় আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন এবং আঙ্গুলটি নাড়াচাড়া করতেন না।
{{মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদিস নং-8437}}
✴️ মুসলিম শরীফের প্রখ্যাত ভাষ্যকার ইমাম নববী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এরশাদ করেন-
ﻗﺎﻝ ﺃﺻﺤﺎﺑﻨﺎ ﻭﻻ ﻳﺸﻴﺮ ﺑﻬﺎ ﺇﻻ ﻣﺮﺓ ﻭاﺣﺪﺓ ﻭﺣﻜﻰ اﻟﺮاﻓﻌﻲ ﻭﺟﻬﺎ ﺃﻧﻪ ﻳﺸﻴﺮ ﺑﻬﺎ ﻓﻲ ﺟﻤﻴﻊ اﻟﺘﺸﻬﺪ ﻭﻫﻮ ﺿﻌﻴﻒ ﻭﻫﻞ ﻳﺤﺮﻛﻬﺎ ﻋﻨﺪ اﻟﺮﻓﻊ ﺑﺎﻹﺷﺎﺭﺓ ﻓﻴﻪ ﺃﻭﺟﻪ (اﻟﺼﺤﻴﺢ) اﻟﺬﻱ ﻗﻄﻊ ﺑﻪ اﻟﺠﻤﻬﻮﺭ ﺃﻧﻪ ﻻ ﻳﺤﺮﻛﻬﺎ ﻓﻠﻮ ﺣﺮﻛﻬﺎ ﻛﺎﻥ ﻣﻜﺮﻭﻫﺎ
অর্থাৎ! আমাদের ইমামগণ বলেছেন, মুসল্লী তাশাহুদে শুধুমাত্র একবার ইশারা করবে। ইমাম রাফেয়ী বলেন- নামাজী পুরো তাশাহুদের মধ্যে ইশারা করতে থাকবে, কিন্তু এই মতটি অতি দুর্বল। আর ইশারা করার সময় আঙ্গুল নাড়াচাড়া করবে কিনা এই প্রসঙ্গে সহীহ মত হলো সেটাই যা সংখ্যাগরিষ্ঠ ইমামগণ বলেছেন, অর্থাৎ ইশারা করার সময় আংগুল হারকাত বা নাড়াচাড়া করবে না। সেই সময় আঙ্গুল নাড়াচাড়া করা মাকরূহ।
{{ মাজমুয় শারহুল মুহায্যাব খন্ড-3 পৃষ্ঠা-454 }}
✴️ ইমাম ইবনে হাযম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এরশাদ করেন-
ﻣﺴﺄﻟﺔ: ﻭﻧﺴﺘﺤﺐ ﺃﻥ ﻳﺸﻴﺮ اﻟﻤﺼﻠﻲ ﺇﺫا ﺟﻠﺲ ﻟﻠﺘﺸﻬﺪ ﺑﺄﺻﺒﻌﻪ ﻭﻻ ﻳﺤﺮﻛﻬﺎ
অর্থাৎ! আমাদের নিকট মুস্তাহাব পন্থা হল, নামাজী তাশাহুদের সময় যখন বসবে তখন আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করবে এবং তা নড়াচড়া করবে না।
{{ আল-মুহাল্লা বিল আসার খন্ড-3 পৃষ্ঠা-64 }}
✴️ ইমাম ইবনে কুদামা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এরশাদ করেন-
ﺃﻭﻟﻰ؛ اﻗﺘﺪاء ﺑﺎﻟﻨﺒﻲ – ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ -. ﻭﻳﺸﻴﺮ ﺑﺎﻟﺴﺒﺎﺑﺔ، ﻳﺮﻓﻌﻬﺎ ﻋﻨﺪ ﺫﻛﺮ اﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻓﻲ ﺗﺸﻬﺪﻩ؛ ﻟﻤﺎ ﺭﻭﻳﻨﺎ، ﻭﻻ ﻳﺤﺮﻛﻬﺎ؛ ﻟﻤﺎ ﺭﻭﻯ ﻋﺒﺪ اﻟﻠﻪ ﺑﻦ اﻟﺰﺑﻴﺮ «، ﺃﻥ اﻟﻨﺒﻲ – ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﻛﺎﻥ ﻳﺸﻴﺮ ﺑﺈﺻﺒﻌﻪ ﻭﻻ ﻳﺤﺮﻛﻬﺎ» . ﺭﻭاﻩ ﺃﺑﻮ ﺩاﻭﺩ.
অর্থাৎ! উত্তম পন্থা হল, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করা এবং শাহাদাতের আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা যথা তাশাহুদে আল্লাহর জিকিরের সময় আঙ্গুল উঠানো এবং আঙ্গল নাড়াচাড়া করবে না। কারণ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন তিনি আঙ্গুল নাড়াচাড়া করতেন না। উক্ত হাদিসটি ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
{{আল-মুগনী ইবনে কুদামা খন্ড-1 পৃষ্ঠা-383 }}
☀️ প্রশ্ন:- হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত এক হাদিসে তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশাহুদে ইশারা করার সময় তাঁর আংগুল নড়াচড়া করতেন তাহলে দুই হাদিসের মধ্যে সমাধান কি করে হবে?
🌹উত্তর:- সেই হাদিসে নড়াচড়া করার অর্থ এটা নয় যে বারবার তিনি তা নড়াচড়া করতেন বরং তার অর্থ হলো ইশারা করার জন্য নড়ানো। যেমন ইমাম বাইহাকী সেই হাদিসের ব্যাখ্যায় এরশাদ করেন-
ﻓﻴﺤﺘﻤﻞ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ اﻟﻤﺮاﺩ ﺑﺎﻟﺘﺤﺮﻳﻚ اﻹﺷﺎﺭﺓ ﺑﻬﺎ ﻻ ﺗﻜﺮﻳﺮ ﺗﺤﺮﻳﻜﻬﺎ ﻓﻴﻜﻮﻥ ﻣﻮاﻓﻘﺎ ﻟﺮﻭاﻳﺔ اﺑﻦ اﻟﺰﺑﻴﺮ ﻭاﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺃﻋﻠﻢ
অর্থাৎ! এই হাদিসে নড়াচড়া করার অর্থ হলো ইশারা করার জন্য আঙ্গুল নাড়ানো, সেটা বারবার নাড়াচাড়া করা নয় যাহাতে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসটির সঙ্গে মিল হয়ে যায়।
{{ সুনানে কুবরা বাইহাকী খন্ড-2 পৃষ্ঠা-189 }}
*তেমনি ইমাম মোল্লা আলী কারী রহমতুল্লাহি আলাইহি সেই হাদিসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন-
ﻭﻳﻤﻜﻦ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻣﻌﻨﻰ ﻳﺤﺮﻛﻬﺎ ﻳﺮﻓﻌﻬﺎ، ﺇﺫ ﻻ ﻳﻤﻜﻦ ﺭﻓﻌﻬﺎ ﺑﺪﻭﻥ ﺗﺤﺮﻳﻜﻬﺎ، ﻭاﻟﻠﻪ ﺃﻋﻠﻢ
অর্থাৎ! ওয়াইল ইবনে হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত আঙ্গুর নড়াচড়া করার অর্থ হলো আঙ্গুলকে উঠানো। কারণ আঙুল না উঠিয়ে ইশারা করা সম্ভব নয়।
{{ মিরকাতুল মাফাতিঃ খন্ড-2 পৃষ্ঠা-735 }}
*ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রাহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন-
ﺣﺪﻳﺚ ﻭاﺋﻞ ﺑﻦ ﺣﺠﺮ: ﺃﻧﻪ ﻭﺻﻒ ﺻﻼﺓ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺫﻛﺮ ﻭﺿﻊ اﻟﻴﺪﻳﻦ ﻓﻲ اﻟﺘﺸﻬﺪ ﻗﺎﻝ: ﺛﻢ ﺭﻓﻊ ﺇﺻﺒﻌﻪ ﻓﺮﺃﻳﺘﻪ ﻳﺤﺮﻛﻬﺎ ﻳﺪﻋﻮ ﺑﻬﺎ اﺑﻦ ﺧﺰﻳﻤﺔ ﻭاﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﺑﻬﺬا اﻟﻠﻔﻆ ﻭﻗﺎﻝ اﻟﺒﻴﻬﻘﻲ: ﻳﺤﺘﻤﻞ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﻣﺮاﺩﻩ ﺑﺎﻟﺘﺤﺮﻳﻚ اﻹﺷﺎﺭﺓ ﺑﻬﺎ ﻻ ﺗﻜﺮﻳﺮ ﺗﺤﺮﻳﻜﻬﺎ ﺣﺘﻰ ﻻ ﻳﻌﺎﺭﺽ
অর্থাৎ! ওয়াইল ইবনে হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত হাদিসে তিনি নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামাজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাশাহুদে উভয় হাত রাখার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তিনি বলেন, অতঃপর তিনি আঙ্গুলকে তুললেন, আমি দেখলাম তিনি আংগুল নাড়াচাড়া করে দু’য়া করছেন। ইমাম ইবনে খুযাইমা ও ইমাম বাইহাকী রাহমাতুল্লাহি আলাইহিমা হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বাইহাকী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, এখানে নাড়াচাড়া করার অর্থ হলো ইশারা করা তা বারবার হারকাত দেওয়া অথবা নড়ানো নয়।
{{ তালখীসুল হাবীর খন্ড-1 পৃষ্ঠা-628 }}
💫وما توفيقي الا بالله العلي العظيم و الصلاة والسلام على حبيبه الكريم صلى الله عليه وسلم💫
✍️
⁦✍️⁩⁦মুফতী আমজাদ হোসাইন সিমনানী প্রেসিডেন্ট সুন্নি মিশন✍️⁩ পরিচালক:- সিমনানী রিসার্চ সেন্টার✍️
🌍 থানা- কুশমন্ডি, জেলা- দক্ষিন দিনাজপুর, রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, ভারত🌍
নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE & HOLY-WAY TEAM

সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন www.keyofislam.com

আমাদের Real Sunni TvHoly way ইউটিউব চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন

আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

This Post Has 8 Comments

  1. Abdullah

    Jazaakallah khaira for uploading this post

  2. Kife

    Important topic

    1. Samim Aktar

      আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ জানার বিষয়
      ১@ আমি বাইরে কাজ করার জন্য যাই তো আমার যোহর,আসর নামজ কাজা হয় কোনো দিন মাগরিব নামাজ ও কাজা হয় তো আমি আমাকে ইসারে নামাজ আদায় করতে হয় ।
      আরো একটা যানার বিষয় হলো য়ে
      ২@ আমি পাঁচ বা ছয় মাস করে বাইরে কাজ করি আমার বাড়িতে বিবি আছে তো ইসলাম কি বলে।
      আর আমি যখন বিয়ে করি তখন আমার সাদা পানির মতো বেরিয়ে ছিল কিন্তু, আমি বিনা ওযূ তে বিয়ে হয়েছে। আমি কোন মেয়েকে টাচ করীনি আমার বিয়েটা কি য়াইয হযেছে । আমি একজন সন্নী । আমার মোদি কোনো বানান ভুল হয় তাহলে আমাকে খমা করে দিও।

  3. Kaneez

    Good topic

  4. Samim Aktar

    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ জানার বিষয়
    ১@ আমি বাইরে কাজ করার জন্য যাই তো আমার যোহর,আসর নামজ কাজা হয় কোনো দিন মাগরিব নামাজ ও কাজা হয় তো আমি আমাকে ইসারে নামাজ আদায় করতে হয় ।
    আরো একটা যানার বিষয় হলো য়ে
    ২@ আমি পাঁচ বা ছয় মাস করে বাইরে কাজ করি আমার বাড়িতে বিবি আছে তো ইসলাম কি বলে।
    আর আমি যখন বিয়ে করি তখন আমার সাদা পানির মতো বেরিয়ে ছিল কিন্তু, আমি বিনা ওযূ তে বিয়ে হয়েছে। আমি কোন মেয়েকে টাচ করীনি আমার বিয়েটা কি য়াইয হযেছে । আমি একজন সন্নী ।

  5. Samim Aktar

    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ জানার বিষয়
    ১@ আমি বাইরে কাজ করার জন্য যাই তো আমার যোহর,আসর নামজ কাজা হয় কোনো দিন মাগরিব নামাজ ও কাজা হয় তো আমি আমাকে ইসারে নামাজ আদায় করতে হয় ।
    আরো একটা যানার বিষয় হলো য়ে
    ২@ আমি পাঁচ বা ছয় মাস করে বাইরে কাজ করি আমার বাড়িতে বিবি আছে তো ইসলাম কি বলে।
    আর আমি যখন বিয়ে করি তখন আমার সাদা পানির মতো বেরিয়ে ছিল কিন্তু, আমি বিনা ওযূ তে বিয়ে হয়েছে। আমি কোন মেয়েকে টাচ করীনি আমার বিয়েটা কি য়াইয হযেছে । আমি একজন সন্নী । আমার মোদি কোনো বানান ভুল হয় তাহলে আমাকে খমা করে দিও।

  6. Ivelisse Theilen

    Great review. I already added it to my TBR as soon as I read your previous post about this book.