দাফনের সময় ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ পাঠ করা জায়েজ নাকি নাজায়েজ?

দাফনের সময় ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ পাঠ করা জায়েজ নাকি নাজায়েজ?

দাফনের সময় ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ পাঠ করা জায়েজ নাকি নাজায়েজ?

       💫بسم الله الرحمن الرحيم💫
✳️نحمده تبارك و تعالي و نصلي ونسلم على حبيبه الاعلى صلى الله عليه وسلم أما بعد-✳️
✴️ প্রিয় মুসলিম সমাজ! আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত অনুসারী ব্যক্তিদের মধ্যে প্রচলিত আছে, লোকজন মৃত ব্যক্তিকে কবরে নামানোর পর তার কবরের উপর মাটি দেওয়ার সময় প্রথম মুষ্টিতে ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ, দ্বিতীয় মুষ্টিতে ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ ও তৃতীয় মুষ্টিতে ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﺟﻜﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ পাঠ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে কিছু নামধারী শায়েখ ও মৌলভীরা উক্ত কর্মকে বিদআত ও শির্কের আওতায় নিয়ে আসছে। তাই আজকের আলোচনা বিষয় হল, কি সত্যি এই কর্মটি শিরক ও বিদআতের মধ্যে পড়বে? এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হল, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার সময় উপরোক্ত কোরআন শরীফের আয়াত টি পাঠ করা শিরক ও বিদআত নয় বরং এই আমলটি জায়েজ ও মুস্তাহাব কর্মের অন্তর্ভুক্ত। কারণ উক্ত কর্মটি বহু হাদিস ও ইমামগণের মন্তব্য হতে প্রমাণিত। যেমন-
ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﺃﻣﺎﻣﺔ ﻗﺎﻝ: ﻟﻤﺎ ﻭﺿﻌﺖ ﺃﻡ ﻛﻠﺜﻮﻡ اﺑﻨﺔ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻲ اﻟﻘﺒﺮ. ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: ” {ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ، ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﺟﻜﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ} [ ﻃﻪ: 55]
অর্থাৎ! হযরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কন্যা হযরত উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহা কে যখন কবরে রাখা হল নবী কারীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তখন
ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ، ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﺟﻜﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ
পাঠ করলেন।
{{ মুসনাদে আহমদ হাদিস নং-22187,, মুস্তাদরাক হাকিম হাদিস নং-3433,, সুনানে কুবরা বাইহাকী হাদিস নং-6726,, জামেউল মাসানিদ ওয়া সুনান হাদিস নং-11024,, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ হাদিস নং-4239,, কানযুল উম্মাল হাদিস নং-42396 }}
✴️ইমাম ইবনে কাসীর রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
ﻭﻓﻲ اﻟﺤﺪﻳﺚ اﻟﺬﻱ ﻓﻲ اﻟﺴﻨﻦ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺣﻀﺮ ﺟﻨﺎﺯﺓ، ﻓﻠﻤﺎ ﺩﻓﻦ اﻟﻤﻴﺖ ﺃﺧﺬ ﻗﺒﻀﺔ ﻣﻦ اﻟﺘﺮاﺏ ﻓﺄﻟﻘﺎﻫﺎ ﻓﻲ اﻟﻘﺒﺮ ﻭﻗﺎﻝ: ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ، ﺛﻢ ﺃﺧﺬ ﺃﺧﺮﻯ، ﻭﻗﺎﻝ: ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ، ﺛﻢ ﺃﺧﺮﻯ، ﻭﻗﺎﻝ: ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﺟﻜﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ.
অর্থাৎ! হাদিসের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন এক জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। অতঃপর যখন মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয় তখন এক মুষ্টি মাটি নিয়ে কবরে রাখলেন এবং পাঠ করলেন ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ তারপর দ্বিতীয় মুষ্টি মাটি নিয়ে পাঠ করলেন ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ অতঃপর তৃতীয় মুষ্টি মাটি নিয়ে পাঠ করলেন ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﺟﻜﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ
{{ তাফসির ইবনে কাসির খন্ড-5 পৃষ্ঠা-263 }}
✴️ মুসলিম শরীফের প্রখ্যাত ভাষ্যকার ও বিশ্ব বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম নববী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ইরশাদ করেন-
اﻟﺴﻨﺔ ﻟﻤﻦ ﻛﺎﻥ ﻋﻠﻰ اﻟﻘﺒﺮ ﺃﻥ ﻳﺤﺜﻲ ﻓﻲ اﻟﻘﺒﺮ ﺛﻼﺙ ﺣﺜﻴﺎﺕ ﺑﻴﺪﻳﻪ ﺟﻤﻴﻌﺎ ﻣﻦ ﻗﺒﻞ ﺭﺃﺳﻪ.
ﻗﺎﻝ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﻣﻦ ﺃﺻﺤﺎﺑﻨﺎ: ﻳﺴﺘﺤﺐ ﺃﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﻓﻲ اﻟﺤﺜﻴﺔ اﻷﻭﻟﻰ: (ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ) ﻭﻓﻲ اﻟﺜﺎﻧﻴﺔ: (ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ) ﻭﻓﻲ اﻟﺜﺎﻟﺜﺔ: (ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﺟﻜﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ)
অর্থাৎ! সুন্নত পন্থা হলো- কবরের উপর মাথার দিক থেকে উভয় হাত ভরে তিন মুষ্টি মাটি দেওয়া। আমাদের মাজহাবের একদল ইমামগণ বলেছেন, প্রথম মুষ্টিতে ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ দ্বিতীয় মিষ্টিতে ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ এবং তৃতীয় মুষ্টিতে ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﺟﻜﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ পাঠ করা হল মুস্তাহাব।
{{ কিতাবুল আজকার নাবাবী খন্ড-1 পৃষ্ঠা-161}}
✴️তিনি আরো বলেন-
ﻗﺎﻝ اﻟﻘﺎﺿﻲ ﺣﺴﻴﻦ ﻭاﻟﻤﺘﻮﻟﻲ ﻭﺁﺧﺮﻭﻥ ﻳﺴﺘﺤﺐ ﺃﻥ ﻳﻘﻮﻝ ﻓﻲ اﻟﺤﺜﻴﺔ اﻻﻭﻟﻲ (ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ) ﻭﻓﻰ اﻟﺜﺎﻧﻴﺔ (ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ) ﻭﻓﻰ اﻟﺜﺎﻟﺜﺔ (ﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﺟﻜﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ) ﻭﻗﺪ ﻳﺴﺘﺪﻝ ﻟﻪ ﺑﺤﺪﻳﺚ ﺃﺑﻲ ﺃﻣﺎﻣﺔ ﺭﺿﻲ اﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ” ﻟﻤﺎ ﻭﺿﻌﺖ ﺃﻡ ﻛﻠﺜﻮﻡ ﺑﻨﺖ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﻲ اﻟﻘﺒﺮ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﻛﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ ” ﺭﻭاﻩ اﻹﻣﺎﻡ ﺃﺣﻤﺪ ﻣﻦ ﺭﻭاﻳﺔ ﻋﺒﻴﺪ اﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﺯﺧﺮ ﻋﻦ ﻋﻠﻰ ﺑﻦ ﺯﻳﺪ اﺑﻦ ﺟﺪﻋﺎﻥ ﻋﻦ اﻟﻘﺎﺳﻢ ﻭﺛﻼﺛﺘﻬﻢ ﺿﻌﻔﺎء ﻟﻜﻦ ﻳﺴﺘﺄﻧﺲ ﺑﺄﺣﺎﺩﻳﺚ اﻟﻔﻀﺎﺋﻞ ﻭاﻥ ﻛﺎﻥ ﺿﻌﻴﻔﺔ اﻹﺳﻨﺎﺩ ﻭﻳﻌﻤﻞ ﺑﻬﺎ ﻓﻲ اﻟﺘﺮﻏﻴﺐ ﻭاﻟﺘﺮﻫﻴﺐ ﻭﻫﺬا ﻣﻨﻬﺎ ﻭاﻟﻠﻪ ﺃﻋﻠﻢ
অর্থাৎ! হযরত কাজী হোসাইন, মোতওয়াল্লী ও অন্যান্য ইমামগণ বলেছেন, মুস্তাহাব তরিকা হলো- প্রথম মুষ্টিতে “ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ”, দ্বিতীয় মুষ্টিতে “ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ” এবং তৃতীয় মুষ্টিতে “ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﻛﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ” পাঠ করা। এবং তারা হযরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদিস টি উক্ত কর্মের দলিল রূপে পেশ করেছেন। অর্থাৎ যখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কন্যা হযরত উম্মে কুলসুম রাদিয়াল্লাহু আনহা কে কবরে রাখা হয় তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﻛﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ আয়াতটি পাঠ করেন। উক্ত হাদিসটি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ওবায়দুল্লাহ বিন জাখার হতে বর্ণনা করেন, তিনি আলী বিন জায়েদ বিন জাদায়ান হতে ও তিনি কাছিম হতে হাদিসটি বর্ণনা করেন। উপরোক্ত তিনজন বর্ণনাকারী যদিও দুর্বল কিন্তু জয়ীফ হাদিস ফজিলত সংক্রান্ত বিষয়াদির জন্য প্রযোজ্য। কারণ জয়ীফ হাদিসের উপর তারগীব ওয়া তারহীব সংক্রান্ত বিষয়াদির ক্ষেত্রে আমল করতে কোন অসুবিধা নেই।
{{ মাজমু শারহুল মুহায্যাব খন্ড-5 পৃষ্ঠা-293-294 }}
✴️ বিশ্ব বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফিক্বাহ শাস্ত্রবিদ ইমাম মোল্লা আলী কারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ইরশাদ করেন-
ﻭﻋﻦ ﺟﻌﻔﺮ) ﺃﻱ: اﻟﺼﺎﺩﻕ. (ﺑﻦ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﺃﺑﻴﻪ) ﺃﻱ: ﻣﺤﻤﺪ اﻟﺒﺎﻗﺮ. (ﻣﺮﺳﻼ) ﻷﻧﻪ ﻟﻢ ﻳﺪﺭﻙ اﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻭﺣﺬﻑ اﻟﺼﺤﺎﺑﻲ، ﻭاﻟﻐﺎﻟﺐ ﺭﻭاﻳﺘﻪ ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ. (ﺃﻥ اﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺣﺜﻰ) ﻛﺮﻣﻰ، ﺃﻱ: ﻗﺒﺾ اﻟﺘﺮاﺏ ﻭﺭﻣﺎﻩ. (ﻋﻠﻰ اﻟﻤﻴﺖ) اﻟﻤﺮاﺩ ﺑﻪ اﻟﺠﻨﺲ. (ﺛﻼﺙ ﺣﺜﻴﺎﺕ) ﺃﻱ: ﺣﻔﻨﺎﺕ، ﻭﺭﻭﻯ ﺃﺣﻤﺪ ﺑﺈﺳﻨﺎﺩ ﺿﻌﻴﻒ: ﺃﻧﻪ ﻳﻘﻮﻝ: ﻣﻊ اﻷﻭﻟﻰ. (ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ) ﻭﻣﻊ اﻟﺜﺎﻧﻴﺔ. (ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ) ﻭﻣﻊ اﻟﺜﺎﻟﺜﺔ. (ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﺟﻜﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ)
অর্থাৎ! হযরত জাফর সাদিক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে মুরসাল হাদিস বর্ণিত হয়েছে। কারণ তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কে পাননি এবং তিনি সাহাবীকে বাদ দিয়েছেন। আনুমানিক হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে অর্থাৎ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন মুষ্টি মাটি নিয়ে মৃত ব্যক্তির উপর রাখলেন। আর ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রাহমাতুল্লাহি আলাইহি জয়ীফ সনদে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম মুষ্টিতে ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ পাঠ করেন, দ্বিতীয় মুষ্টিতে ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ পাঠ করেন এবং তৃতীয় মুষ্টিতে ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﺟﻜﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ পাঠ করেন
{{ মিরকাতুল মাফাতীহ খন্ড-3 পৃষ্ঠা-1223 }}
✴️ আহলে হাদীসদের বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও পন্ডিত শাইখ ইবনে বায কে এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হয়-
ﺳ: ﻣﺎ ﺣﻜﻢ ﻗﻮﻝ: {ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﺟﻜﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ} ﻋﻨﺪ اﻟﺪﻓﻦ؟
ﺟ: ﻫﺬا ﺳﻨﺔ، ﻭﻳﻘﻮﻝ ﻣﻌﻪ: ﺑﺴﻢ اﻟﻠﻪ ﻭاﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ.
প্রশ্ন- দাফনের সময় ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﺟﻜﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ পাঠ করা সংক্রান্ত শরীয়তের হুকুম কি রয়েছে?
উত্তর:- দাফনের সময় উপরোক্ত আয়াতটি পাঠ করা হল-সুন্নত। এবং এর সঙ্গে ‘বিসমিল্লাহি’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ পাঠ করবে।
{{ মাজমুয়া ফাতাওয়া ইবনু বায খন্ড-13 পৃষ্ঠা- 196-197 }}
✴️প্রিয় পাঠকবৃন্দ! উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আপনারা অবশ্যই অবগত হয়েছেন যে, আহলে সুন্নাতুল ওয়া জামাত অনুসারী ব্যক্তিদের মধ্যে প্রচলিত মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার সময় ﻣﻨﻬﺎ ﺧﻠﻘﻨﺎﻛﻢ ﻭﻓﻴﻬﺎ ﻧﻌﻴﺪﻛﻢ ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻧﺨﺮﻛﻢ ﺗﺎﺭﺓ ﺃﺧﺮﻯ আয়াতটি পাঠ করা বিদআত ও শির্ক-এর আওতায় পড়েনা বরং এটা মুস্তাহাব ও সুন্নাতে গায়ের মুয়াক্কাদা কর্মসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং বহু হাদিস ও ইমামগণের মন্তব্য হতে প্রমাণিত। যদিও এই বিষয়ে অধিকাংশ হাদিস জয়ীফ সনদে বর্ণিত হয়েছে তথাপি তার উপর আমল করা বৈধ। কারণ ফজিলত, তারগীব ও তারহীব সংক্রান্ত বিষয়াদির ক্ষেত্রে জয়ীফ হাদিসের উপর আমল করা জায়েজ বরং মুস্তাহাব। সুতরাং যে সমস্ত ব্যক্তিরা উপরোক্ত কর্মকে বিদআত ও শির্ক বলে থাকেন তারা হয়তো শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ নচেৎ ধোকাবাজ।
🤲আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সঠিক ইসলামী জ্ঞান অর্জন করে তার উপর আমল করার শক্তি প্রদান করুন! আমীন! বি-জাহে সাইয়েদিল মুরসালীন আলাইহিস স্বালাতু ওয়াত তাসলীম।
💫وما توفيقي الا بالله العلي العظيم و الصلاة والسلام على حبيبه الكريم صلى الله عليه وسلم💫
✍️
⁦✍️⁩⁦মুফতী আমজাদ হোসাইন সিমনানী প্রেসিডেন্ট সুন্নি মিশন✍️⁩ পরিচালক:- সিমনানী রিসার্চ সেন্টার✍️
🌍 থানা- কুশমন্ডি, জেলা- দক্ষিন দিনাজপুর, রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, ভারত🌍
নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE & HOLY-WAY TEAM

সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন www.keyofislam.com

আমাদের Real Sunni TvHoly way ইউটিউব চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন

আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

This Post Has 4 Comments

  1. Abdullah

    جزاك الله خيرا

  2. Kaneez

    Important topic

  3. Humayun k

    More update please

  4. Md. Anwarul Islam

    ‍হযরত মা ফাতিমা রা: নামাজ কি রুপ ছিল ? তাঁর জীবনে কোন নামাজ ফওত হয়েছিল কি না? তিফলে নুর কি জানতে চায়।