নতুন স্ত্রী যদি ঋতুবর্তী হয় তাহলে বাসর রাত কিভাবে কাটাবেন

নতুন স্ত্রী যদি ঋতুবর্তী হয় তাহলে বাসর রাত কিভাবে কাটাবেন

নতুন স্ত্রী যদি ঋতুবর্তী হয় তাহলে বাসর রাত কিভাবে কাটাবেন?

        ✳️بسم الله الرحمن الرحيم✳️
💎نحمده تبارك و تعالي و نصلي و نسلم على حبيبه الاعلى أما بعد-💎
✴️প্রিয় পাঠকবৃন্দ! আমরা সবাই অবগত যে, মহিলারা প্রায় প্রত্যেক মাসেই ঋতুবর্তী হয়। যেই সময়ে কোরআন শরীফ পাঠ করা, নামাজ আদায় করা, কোরআন শরীফ স্পর্শ করা ইত্যাদি নেক কাজগুলো সেই মেয়েটির জন্য হারাম হয়ে যায়। তেমনি তার সঙ্গে সঙ্গম ও সহবাস করাও হারাম হয়ে যায়। বিয়ের সময় অনেক মহিলা শরম ও লজ্জার কারনে নিজের ঋতুবর্তী হওয়ার সংবাদ অন্য কাউকে দিতে পারলো না, বা কেউ তার কাছে সেই প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করল না, অথবা জিজ্ঞেস করার পরে বিয়ের দিন মহিলা ঋতুবর্তী হয়ে গেল এই অবস্থায় বাসর রাত তার সঙ্গে কিভাবে কাটানো যাবে বা তার সঙ্গে কি কি করা জায়েজ ও বৈধ হবে? তা জানা টা অবশ্যই আমাদের জন্য অপরিহার্য।
প্রাক ইসলামী যুগে ইহুদী এবং খ্রিষ্টানদের কোন মহিলা যদি ঋতুবর্তী হয়ে যেত তাহলে তাকে ঘর থেকে দের করে দেওয়া হতো এবং তার সঙ্গে পানাহার কেউ অবৈধ ও নাজায়েজ মনে করা হতো কিন্তু ইসলাম আসার পর সেই সমস্ত অমানবিক আচরণ কে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোরআন ও হাদিসের পর্যালোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, মেয়েদের ঋতুবর্তী হওয়ার সময় তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া যাবে না আর না তার সঙ্গে পানাহার করাটা হারাম বলে বিবেচিত হবে বরং তার সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমানো এবং তার কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত অঙ্গ ব্যতীত গোটা শরীর কে ব্যবহার যোগ্য ও জায়েজ করা হয়েছে। অতএব যদি কারো বিয়ের সময় নতুন স্ত্রী ঋতুবর্তী হয় তাহলে তার কোমর থেকে হাটু পর্যন্ত অংশটুকু বাদ দিয়ে অন্যান্য অংশ ও অঙ্গ কে ইচ্ছামত ব্যবহার করতে পারে। উপরোক্ত আলোচনার পক্ষে নিম্নে কিছু হাদিস তুলে ধরা হলো-
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ الْيَهُودَ كَانَتْ إِذَا حَاضَتْ مِنْهُمُ امْرَأَةٌ أَخْرَجُوهَا مِنَ الْبَيْتِ، وَلَمْ يُؤَاكِلُوهَا وَلَمْ يُشَارِبُوهَا، وَلَمْ يُجَامِعُوهَا فِي الْبَيْتِ فَسُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ المَحِيضِ، قُلْ: هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ} [البقرة: ٢٢٢] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: جَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ، وَاصْنَعُوا كُلَّ شَيْءٍ غَيْرَ النِّكَاحِ فَقَالَتِ الْيَهُودُ: مَا يُرِيدُ هَذَا الرَّجُلُ أَنْ يَدَعَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِنَا إِلَّا خَالَفَنَا فِيهِ، فَجَاءَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ، وَعَبَّادُ بْنُ بِشْرٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْيَهُودَ تَقُولُ: كَذَا وَكَذَا، أَفَلَا نَنْكِحُهُنَّ فِي الْمَحِيضِ، فَتَمَعَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنْ قَدْ وَجَدَ عَلَيْهِمَا، فَخَرَجَا، فَاسْتَقْبَلَتْهُمَا هَدِيَّةٌ مِنْ لَبَنٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَعَثَ فِي آثَارِهِمَا، فَظَنَنَّا أَنَّهُ لَمْ يَجِدْ عَلَيْهِمَا (صحيح،)
অর্থাৎ!! আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত। ইয়াহুদীদের কোনো নারী ঋতুবতী হলে তারা তাকে ঘর থেকে বের করে দিতো এবং তাদের সাথে খানপিনায়ও শরীক করতো না এবং তাদের সাথে একই ঘরে অবস্থান করতে দিতো না। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলে মহান আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ ‘‘লোকজন আপনাকে হায়িয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে। আপনি বলুন, তা অপবিত্রতা। সুতরাং তোমরা হায়িয চলাকালে সঙ্গম বর্জন করো।’’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা তাদেরকে নিয়ে একই ঘরে থাকো এবং সঙ্গম ছাড়া সবই একত্রে করো। এ কথা শুনে ইয়াহুদীরা বললো, এ ব্যক্তি তো আমাদের কাজগুলোকে শুধুমাত্র বর্জনই করে না, বরং স্বেচ্ছায় এর বিরোধিতাও করে থাকে। তখন উসাইদ ইবনু হুদাইর ও ‘আব্বাদ ইবনু বিশর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! (ইয়াহুদীরা) এরূপ বলেছে। সুতরাং আমরা কি হায়িয অবস্থায় সঙ্গম করবো? একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেলো। আমরা মনে করলাম, তিনি এদের উপর রাগান্বিত হয়েছেন। এমন সময় তারা সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন। ঠিক তখন তাদের সামনে দিয়ে কিছু দুধ উপঢৌকন হিসাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলে তিনি তাদের খোঁজে লোক পাঠালেন। তখন আমরা বুঝতে পারলাম, তিনি তাদের উপর রাগান্বিত হননি।
{{ সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং-2167 }}
عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، تَقُولُ: كُنْتُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيتُ فِي الشِّعَارِ الْوَاحِدِ وَأَنَا حَائِضٌ طَامِثٌ، فَإِنْ أَصَابَهُ مِنِّي شَيْءٌ غَسَلَ مَكَانَهُ، وَلَمْ يَعْدُهُ، وَإِنْ أَصَابَ تَعْنِي ثَوْبَهُ مِنْهُ شَيْءٌ غَسَلَ مَكَانَهُ وَلَمْ يَعْدُهُ وَصَلَّى فِيهِ (صحيح)
অর্থাৎ! আয়িশাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হায়িয অবস্থায় আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কম্বলে রাত কাটাতাম। আমার দেহের রক্ত তাঁর দেহে লাগলে তিনি শুধু ঐ স্থানটি ধুয়ে নিতেন। আর যদি রক্তের কিছু তাঁর কাপড়ে লাগতো তখনও তিনি শুধু তাই ধুয়ে নিতেন এবং সেই কাপড় পরেই সালাত আদায় করতেন।
{{ সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং-2168 }}
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ خَالَتِهِ مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُبَاشِرَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ وَهِيَ حَائِضٌ أَمَرَهَا أَنْ تَتَّزِرَ ثُمَّ يُبَاشِرُهَا (صحيح)
অর্থাৎ! মায়মূনাহ বিনতুল হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে একত্রে থাকতে চাইলে, তাকে ইযার শক্তভাবে বেঁধে পরিধান করার নির্দেশ দিতেন, অতঃপর তার সাথে মোবাশ্বেরাত করতেন।
{{ সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং-2169 }}
{{ সহীহ বুখারী হাদিস নং-305 }}
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَتْ إِحْدَانَا إِذَا كَانَتْ حَائِضًا، فَأَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُبَاشِرَهَا، أَمَرَهَا أَنْ تَتَّزِرَ فِي فَوْرِ حَيْضَتِهَا ثُمَّ يُبَاشِرُهَا.
অর্থাৎ! আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমাদের কেউ হায়য অবস্থায় থাকলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে মিশামিশি করতে চাইলে তাকে হায়যের ইযার পরার নির্দেশ দিতেন। তারপর তার সাথে মিশামিশি করতেন।
{{ সহীহ বুখারী হাদিস নং-302 }}
{{ মুসনাদে আহমদ হাদিস নং-25410 }}
{{ সুনানে নাসাঈ হাদিস নং-286 }}
{{ মুসনাদে আবী ইয়ালা হাদিস নং-4810 }}
✴️সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে যে, ঋতুবতী স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গম অথবা সহবাস করা হারাম তবে তবে সংগ্রাম ও সবুজ ব্যতীত অন্যান্য বিষয়াদি জায়েজ অবৈধ থাকবে। এবং হারাম জানা সত্ত্বেও যদি কোন ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত তার স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গম সহবাস করে ফেলে তাহলে হাদিসের মধ্যে পাওয়া যায় সেই ক্ষেত্রে তাকে এক অথবা আধা দিনার দান ও সাদকাহ করা উচিত। যা নিম্নোক্ত হাদিস থেকে সুস্পষ্ট।
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ؟ قَالَ: يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ، أَوْ بِنِصْفِ دِينَارٍ (صحيح،)
অর্থাৎ! ইবনু ‘আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কিত বর্ণিত, যে হায়িয অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করেছে। তিনি বলেনঃ সে এক অথবা অর্ধ দীনার সাদাকাহ করবে।
{{ সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং-«264 }}
{{ মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক হাদিস নং-1264 }}
{{ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদিস-12375 }}
{{ মুসনাদে আহমদ হাদিস নং-2032 }}
{{ সুনানে দারেমী হাদিস নং-1146 }}
🤲 আল্লাহ তাআলা আমাদের সমস্ত মুসলিম ভাই বোনদের কে উপরোক্ত মসলাটির উপর আমল করার শক্তি প্রদান করুন!! আমিন বি-জাহি সাইয়েদিল মুরসালীন আলাইহিস্ব স্বালাতু ওয়াত তাসলীম!!!
🌻وما توفيقي الا بالله العلي العظيم و الصلاة والسلام على حبيبه الكريم صلى الله تعالي عليه و على اله و سلم🌻
✍️মুফতী আমজাদ হুসাইন সিমনানী, প্রেসিডেন্ট সুন্নি মিশন✍️
🌍 থানা- কুশমন্ডি, জেলা- দক্ষিন দিনাজপুর, রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, ভারত🌍
নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদেরকেকমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE & HOLY-WAY TEAM

সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন www.keyofislam.com

আমাদের Real Sunni TvHoly way ইউটিউব চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন
আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

This Post Has 10 Comments

  1. Simna

    جزاك الله خيرا

  2. Abdullah

    Jazaakallah khaira for uploading this post

  3. Sabir ahammed

    Unique topic…

  4. Sabir ahammed

    Important information…

  5. Anonymous

    সুবহানাল্লাহ,খুব সুন্দর পোস্ট

  6. Anonymous

    দারুণ মূল্যবান আলোচনা

  7. Humayun k

    এই ধরনের আলোচনা বেশি বেশি পড়া উচিত যাতে যুবসমাজ সঠিক দিশা পায় এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কোন নাজায়েজ কর্মে লিপ্ত না হয়।

  8. Sameer

    এই ধরনের আলোচনা বেশি বেশি পড়া উচিত যাতে যুবসমাজ সঠিক দিশা পায় এবং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কোন নাজায়েজ কর্মে লিপ্ত না হয়।

  9. Anonymous

    Maashaallah