বিদআতের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ।
বিদআতের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ।

বিদআতের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ।

বিদআতের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ।

بسم الله الرحمن الرحيم
نحمده و نصلى على رسوله الكريم أما بعد-

বিদা’আত শব্দের আভিধনিক অর্থ : নমুনা বিহীন কোনো নতুন বস্তু বা কাজ করা।
বিদআত’ শব্দের পারিভাষিক অর্থ:
إحداث ما لم يكن فى عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم.
1=অর্থাৎ : যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে ছিল না তা নতুনভাবে আবিষ্কার করা।
2= ধর্মীয় এমন নতুন কাজ যা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সালামের যুগে ছিলনা আর তা সুন্নত বিরোধী।
3= আকিদা সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন সংযোগ যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর দ্বারা অনুমোদিত নয়।
বিদআতের আভিধানিক অর্থ অনুযায়ী বিদআত ভালোও হতে পারে আবার মন্দও হতে পারে, এতে কোন আলিম-ওলামার দ্বিমত নেই।
পারিভাষিক অর্থে বিদআত ভালো-মন্দ হওয়ার ক্ষেত্রে পূর্বপুরুষ উলামা দের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে তবে সেই মতপার্থক্যকে শব্দগত মতপার্থক্য বলা হয়েছে। কারণ, পারিভাষিক অর্থে বিদআত যেহেতু তিনটি পরিভাষায় সন্নিবেশিত হয়েছে তাই পরিভাষার ভিন্নতার ক্ষেত্রে মতপার্থক্য হওয়াই স্বাভাবিক। সর্বোপরি তিনটি পরিভাষার মধ্যে প্রথম পরিভাষা অনুযায়ী বিদআত ভালোও হতে পারে আবার মন্দও হতে পারে। এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরিভাষা অনুযায়ী বেদাত কেবল মন্দ হবে ভালো হতে পারে না। কারণ দ্বিতীয় টি সুন্নত বিরোধী হাওয়াই মন্দ হওয়া জরুরী। আর তৃতীয় পরিভাষার ক্ষেত্রে আকিদাগত বিষয় থাকার কারণে নতুন আকিদা ধারণ করার শরীয়তে যেহেতু কোনো অপশন নেই, তাই তৃতীয় পরিভাষার ক্ষেত্রেও সমস্ত বিদআতই মন্দ হবে। তাহলে পরিশেষে বিদআত এর পরিভাষাগত তিনটি অর্থের মধ্যে প্রথমটির মধ্যে ভালো ও মন্দের অবকাশ থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় অর্থ অনুযায়ী ভালো হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আর এই দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রকার কে লক্ষ্য করেই নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “كل بدعة ضلالة” অর্থাৎ, প্রত্যেক বিদআত পথভ্রষ্ট কারি।

বন্ধুগণ: এবার একটি প্রশ্ন হতে পারে, বিদআতের পরিভাষাগত অর্থের ভিন্নতা প্রতিষ্ঠা করার দরকার কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বলে দিয়েছেন “কুল্লু বিদাতিন দলালা ” অর্থাৎ: প্রত্যেক বিদআত পথ ভ্রষ্ট কারি তখন বিদআতের শ্রেণীবিন্যাস করার প্রয়োজন কী ?

প্রিয় পাঠকগণ :এটি একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন’ আমাদের সালফে সালেহীন গণ বেদাতের পরিভাষাগত অর্থের শ্রেণীবিন্যাস এমনিতেই করেননি তার পিছনে মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।

প্রত্যেক বিদআত পথভ্রষ্টকারী এটি একটি বিখ্যাত হাদীস, আমরা সকলেই জানি শুধু কি আমরাই জানি? সাহাবায়ে কেরামও জানতেন, অবশ্যই সাহাবায়ে কিরাম জানতেন, অথচ দেখা যাচ্ছে সাহাবায়ে কেরাম ধর্মীয় ক্ষেত্রে একাধিক নতুন নিয়মের প্রবর্তন করেছেন। যেমন, হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু 20 রাকাত তারাবিহ পুরো রমজান মাস এক ইমামের পিছনে জামাত সহকারে আদায় করার প্রচলন করেছেন ( বুখারী শরীফ)। আর সেই প্রচলিত নিয়ম কে সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম আপত্তিহীন ভাবে গ্রহণ করেছেন। তাহলে কি হযরত ওমার ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু বিদআতের প্রচলন ঘটিয়েছেন? সমস্ত সাহাবা কিরাম তাহলে কি একটি বিদা’আত কে সমর্থন করেছেন যা পথভ্রষ্টকারী?কখনো হতে পারে না!! আর যদি নাই হতে পারে তাহলে, বিদআতের অবশ্যই একটা সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা করতে হবে, তাই করেছেন শরীয়ত বিশারদগণ যেমন ইমাম শাফেঈ, ইমামে আজম আবু হানিফা, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ইমাম মালিক, ইমামে নাববি, মোল্লা আলী কারী রাহিমাহুমুল্লাহ ইত্যাদি ইত্যাদি গণ ।
তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু জুমার নামাজের জন্য দ্বিতীয় আযান চালু করেন যা নবি পাক সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর যুগে ছিল না। অথচ হযরত উসমান গনি রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে আজ অবধি সুদীর্ঘ চৌদ্দশত বছর কাল অবধি চলে আসছে সেই আজান। তাহলে কি সবাই জুমার দ্বিতীয় আযান দিয়ে বিদআতে লিপ্ত হয়েছে নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক।
বুখারী শরীফে হযরত খুবাইব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কে কাফিরদের দ্বারা হত্যা করার বর্ণনা সম্বলিত হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে যে, হযরত খুবাইব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু শহীদ হওয়ার পূর্বে কাফেরদের নিকট দুই রাকাত নামাজ আদায় করার অনুমতি চেয়ে ছিলেন। অনুমতি প্রাপ্ত হলে তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করে বলেছিলেনঃ তোমরা যদি এমন না ভাবতে যে, আমি মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে নামাজ কে দীর্ঘায়িত করছি তাহলে, আমি আরো দীর্ঘায়িত করতাম। এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, কাফিরদের দ্বারা শহীদ হওয়ার পূর্বে দুই রাকাত নামাজ পড়া খুবাইব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর সুন্নাত। অথচ এমন সময় দুই রাকাত নামাজ পড়ার কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম কখনো বলেননি, আর না কোরআনের কোন নির্দেশ এসেছে। তাহলে কি ওই নির্দিষ্ট সময়ে খোবায়েব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর দুই রাকাত নামাজ পড়া বিদআত? আর তিনি এমন নামাজ আদায় করে কি বেদাতি হয়েছেন?এমন বিদআত করে তিনি কি পথভ্রষ্ট হয়েছেন? নাউজুবিল্লাহ মিন জালেক!!
এমন শতাধিক উদাহরণ দেয়া যাবে, যা সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন কিরাম, তাবা তাবেয়ীন এযাম দের দ্বারা নতুন সংঘটিত ইসলামিক আমল- ইবাদত রয়েছে যদি বিদআতের প্রকারভেদ কে উপেক্ষা করা হয় এবং বেদাতের পরিভাষার বিভিন্নতাকে অস্বীকার করা যায় আর প্রত্যেক বিদআত কে পথভ্রষ্টকারী মেনে নেওয়া যায় । তাহলে অধিকাংশ সাহাবা, অধিকাংশ তাবেঈন অধিকাংশ আইম্মায়ে মুজতাহিদীনগণ বিদাতি সাব্যস্ত হয়ে যাবে। এজন্যই সালফে সালেহীন ও শরীয়ত বিশারদ ফকিহগণ বেদাতের প্রকারভেদ করে এক পক্ষে রাসূলের বাণী কে অক্ষুন্ন রেখে রাসুলের সমস্ত উম্মতকে হেফাজত করেছেন। তাই বিদআতের প্রকারভেদকরণ অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় একাধিক সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈন,তাবা-তাবেঈন সমেত বর্তমান কাল অবধি অধিকাংশ মানুষ বিদাতি প্রমাণিত হবে। আর বিদআতের পরিনাম জাহান্নাম, দেখলেন একটি সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা না দেয়ার কারণে মুসলিম উম্মাহর অধিকাংশ লোক জাহান্নামী হয়ে যাচ্ছে। তাই বলি সতর্ক থাকুন ইমামগণের অনুসরণে জীবন যাপন করুন। অন্যথায় কাল চক্রের আবহে বহে গেলে আখেরে হাত মলতে হবে।

আল্লামা মুফতি আব্দুল জলীল রাইসুদ্দিন, গোপালপুর, মালদা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত,

www.holyway.co.in

Leave a Reply

This Post Has 2 Comments

  1. Kaneez

    বিদআত নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক বাড়াবাড়ি রয়েছে এক শ্রেণীর লোক অযথা বউ কাজে বিধাতার ফতোয়া দিচ্ছে তন্য শ্রেণি বহুবিধ কর্ম কেও সুন্নত বলে চালিয়ে নিচ্ছে তাই বিদআতের সূক্ষ্ম ধারণা আমাদের মধ্যে থাকা আবশ্যক।

  2. Abdullah

    Wahabira bid’ater Ortho bujhena Khali bedat bedat more…..