যদি মূর্খ লোক এদের জন্য পীর ধরা ফরজ হয় তাহলে তারা হাক্কানী পীর চিনবে কি করে

যদি মূর্খ লোক এদের জন্য পীর ধরা ফরজ হয় তাহলে তারা হাক্কানী পীর চিনবে কি করে

প্রশ্ন => যদি মূর্খ লোক এদের জন্য পীর ধরা ফরজ হয় তাহলে তারা হাক্কানী পীর চিনবে কি করে❓
نحمده تبارك و تعالي و نصلي ونسلم على حبيبه الاعلى أما بعد-
📚 উত্তর 👉 আলে সুন্নাত এর সঠিক মতানুযায়ী পীরের কাছে প্রচলিত বায়াত গ্রহণ করা অথবা মুরিদ হওয়া জরুরী অথবা ফরজ নয়। অতএব কোনো ব্যক্তি যদি অতি মূর্খ হয় আর হাক্কানী পীর চিনতে সক্ষম না হয় তাহলে তার মুরিদ হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এবং সে মরিদ না হওয়ার কারণে গুনেগারো হবে না।
✴️ হক্কানী পীর চেনার তিনটি পদ্ধতি রয়েছে যথা-
১)) কোন ব্যক্তির মধ্যে পীর হওয়ার সমস্ত শর্তাবলী যদি বিদ্যমান থাকে তাহলে তাকে হক্কানী অথবা শরীয়ত সম্মত পীর বলে চিহ্নিত করা যাবে।
২)) কোন বিজ্ঞ আলিমকে সেই ব্যক্তির প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করতে হবে, সেই আলিম ও মুফতি তার সমস্ত দিক গুলি পর্যবেক্ষণ করে যদি তার হক্কানী অথবা শরীয়ত সম্মত পীর হওয়ার সম্মতি প্রদান করেন তাহলে তাকেও হক্কানী পীর বলে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
{উল্লেখ্য যে, বর্তমান সময়ে বহু ভন্ড পীর কিছু আলেম ও মুফতী কে টাকা-পয়সা দিয়ে নিজের পীরত্ব প্রচার এর জন্য নিযুক্ত করে রাখেন। সুতরাং এই পন্থা অবলম্বন করার আগে আপনাকে এটাও দেখতে হবে যে, সেই আলেম অথবা মুফতী কোন পীরের দালালি করে কিনা?)
৩)) আল্লাহ তায়ালা যখন কোন বান্দার ইবাদত ও রেয়াজত এর মাধ্যমে সন্তুষ্ট হন, তখন তাঁর ভালোবাসা পৃথিবী বাসীদের অন্তরে পতিত করেন এবং তার কবুলিয়াত ও গ্রহণযোগ্যতা পৃথিবীর বুকে বিস্তার করে দেন। যেমন হাদিসের মধ্যে উল্লেখ আছে 👇
🖋️حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ((إِذَا أَحَبَّ اللَّهُ عَبْدًا نَادَى جِبْرِيلَ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلاَنًا، فَأَحِبَّهُ. فَيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ، فَيُنَادِي جِبْرِيلُ فِي أَهْلِ السَّمَاءِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلاَنًا، فَأَحِبُّوهُ. فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ، ثُمَّ يُوضَعُ لَهُ الْقَبُولُ فِي أَهْلِ الأَرْضِ)).
অর্থাৎ! আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা‘আলা কোন বান্দাকে ভালবাসেন, তখন তিনি জিব্রীল আলাইহিস সালাম-কে ডেকে বলেন, আল্লাহ তা‘আলা অমুক বান্দাকে ভালবাসেন, তুমিও তাকে ভালবাসবে। তখন জিব্রীল আলাইহিস সালাম তাকে ভালবাসেন এবং তিনি আসমানবাসীদের ডেকে বলেন, আল্লাহ তা‘আলা অমুককে ভালবাসেন, অতএব তোমরাও তাকে ভালবাসবে। তখন আসমানবাসীরাও তাকে ভালবাসে। তারপর আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে দুনিয়াবাসীদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করা হয়।
{{ সহীহ বুখারী হাদিস নং-6040 }}
(( হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে ))
🖋️عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((إِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا دَعَا جِبْرِيلَ فَقَالَ إِنِّي أُحِبُّ فُلاَنًا فَأَحِبَّهُ- قَالَ- فَيُحِبُّهُ جِبْرِيلُ ثُمَّ يُنَادِي فِي السَّمَاءِ فَيَقُولُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ فُلاَنًا فَأَحِبُّوهُ. فَيُحِبُّهُ أَهْلُ السَّمَاءِ- قَالَ- ثُمَّ يُوضَعُ لَهُ الْقَبُولُ فِي الأَرْضِ.
অর্থাৎ! আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা যদি কোন বান্দাকে পছন্দ করেন তখন জিবরীল আলাইহিস সালাম কে ডাক দেন এবং বলেন, নিশ্চয়ই আমি অমুক লোককে পছন্দ করি, তুমিও তাকে পছন্দ কর। তিনি বলেন, তখন জিবরীল আলাইহিস সালাম তাকে পছন্দ করেন। অতঃপর তিনি আকাশমণ্ডলীতে ঘোষণা দিয়ে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুক লোককে পছন্দ করেন, সুতরাং আপনারাও তাকে পছন্দ করুন। তখন আকাশবাসীরা তাকে পছন্দ করে। তিনি বলেন, এরপর দুনিয়াতে তাকে নন্দিত, সমাদৃত করা হয়।
{{ সহীহ মুসলিম হাদীস নং-«6873 }}
{{ মু’জামে ইবনে আসাকির হাদিস নং-1517 }}
{{ মুসনাদ আহমাদ হাদিস নং-8500 }}
{{ সুনানে কুবরা নাসাঈ হাদিস নং-7700 }}
(( হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে*))
🖋️ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ((إِذَا أَحَبَّ اللَّهُ عَبْدًا نَادَى جِبْرِيلَ إِنِّي قَدْ أَحْبَبْتُ فُلاَنًا فَأَحِبَّهُ قَالَ فَيُنَادِي فِي السَّمَاءِ ثُمَّ تَنْزِلُ لَهُ الْمَحَبَّةُ فِي أَهْلِ الأَرْضِ فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدًّا} وَإِذَا أَبْغَضَ اللَّهُ عَبْدًا نَادَى جِبْرِيلَ إِنِّي قَدْ أَبْغَضْتُ فُلاَنًا فَيُنَادِي فِي السَّمَاءِ ثُمَّ تَنْزِلُ لَهُ الْبَغْضَاءُ فِي الأَرْضِ)).
قَالَ أَبُو عِيسَى: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
অর্থাৎ! আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দাকে যখন আল্লাহ তা’আলা ভালবাসেন তখন জিবরীলকে ডেকে বলেনঃ আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালবাসি। অতএব তুমিও তাকে ভালবাস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আসমানবাসীদের মধ্যে জিবরীল তখন (এ কথা) ঘোষণা করেন। তারপর যমীনবাসীদের অন্তরে তার জন্য ভালবাসা অবতীর্ণ হয়। এটাই আল্লাহ তা’আলার বাণীর মধ্যে ফুটে উঠেছেঃ “যারা ঈমান আনয়ন করেছে এবং উত্তম কার্য সম্পাদন করেছে খুব শীঘ্রই দয়াময় রহমান (লোকদের অন্তরে তাদের প্রতি) ভালবাসার উদ্রেক করবেন”- (সূরা মারইয়াম ৯৬)। অপর দিকে যখন আল্লাহ তা’আলা কাউকে ঘৃণা করেন তখন জিবরীলকে ডেকে বলেনঃ আমি অমুককে ঘৃণা করি। জিবরীল তখন আসমানবাসীদের মধ্যে এটা ঘোষণা করেন। তারপর যমীনের অধিবাসীদের মনে তার জন্য ঘৃণা অবতীর্ণ হতে থাকে।
{{ সুনানে তিরমিযী হাদিস নং-3457 }}
(( হাদীসটি হাসান ও সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে))
💘💘💘💘💘
وما توفيقي الا بالله العلي العظيم و الصلاة والسلام على حبيبه الكريم صلى الله عليه وسلم
⁦✍️⁩⁦মুফতী আমজাদ হোসাইন সিমনানী প্রেসিডেন্ট সুন্নি মিশন✍️⁩ পরিচালক:- সিমনানী রিসার্চ সেন্টার✍️
🌍 থানা- কুশমন্ডি, জেলা- দক্ষিন দিনাজপুর, রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, ভারত🌍
নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE & HOLY-WAY TEAM

সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন www.keyofislam.com

আমাদের Real Sunni TvHoly way ইউটিউব চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন

আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

This Post Has 3 Comments

  1. Abdullah

    جزاك الله خيرا