যে সকল নারীকে বিবাহ করা ইসলাম শরীয়তে হারাম।

যে সকল নারীকে বিবাহ করা ইসলাম শরীয়তে হারাম।

যে সকল নারীকে বিবাহ করা ইসলাম শরীয়তে হারাম।

             ☀️بسم الله الرحمن الرحيم☀️

💫نحدمه تبارك و تعالي و نصلي و نسلم على رسوله الاعلى أما بعد-💫
✴️সম্মানিত মুসলিম সমাজ। বিবাহ আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্ম এবং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি প্রিয় সুন্নত। তবে এই সুন্নত পালন করার জন্য অবশ্যই বহু বিষয়াদি জানা আমাদের জন্য অপরিহার্য। ইসলাম শরীয়তে বিবাহর অনেকগুলো নীতি, আইন ও কানুন রয়েছে তন্মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য নীতি হলো- আপনি সমস্ত ও সব ধরনের মহিলা কে বিবাহ করতে পারবেন না। বিবাহ করার জন্য সেই সমস্ত মহিলাদের আপনাকে নির্বাচন করতে হবে যে সমস্ত মহিলাদের কে বিবাহ করা আপনার জন্য জায়েজ ও বৈধ রয়েছে। আর যে সমস্ত মহিলাদের কে বিবাহ করা নাজায়েজ সেইসব মহিলাকে বিবাহ করলে আপনার দাম্পত্যজীবন বৈধ হবে না বরং অবৈধ হবে এবং সমস্ত কর্ম গুনাহে কবিরাহ বলে গণ্য হবে। তাই আমাদেরকে জেনে নিতে হবে, কোন কোন মহিলাকে আমরা বিবাহ করতে পারবোনা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা তাঁর মহা মূল্যবান গ্রন্থ কুরআনুল মাজীদ এর মধ্যে ইরশাদ করেন-
حُرِّمَتۡ عَلَیۡکُمۡ اُمَّہٰتُکُمۡ وَ بَنٰتُکُمۡ وَ اَخَوٰتُکُمۡ وَ عَمّٰتُکُمۡ وَ خٰلٰتُکُمۡ وَ بَنٰتُ الۡاَخِ وَ بَنٰتُ الۡاُخۡتِ وَ اُمَّہٰتُکُمُ الّٰتِیۡۤ اَرۡضَعۡنَکُمۡ وَ اَخَوٰتُکُمۡ مِّنَ الرَّضَاعَۃِ وَ اُمَّہٰتُ نِسَآئِکُمۡ وَ رَبَآئِبُکُمُ الّٰتِیۡ فِیۡ حُجُوۡرِکُمۡ مِّنۡ نِّسَآئِکُمُ الّٰتِیۡ دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ ۫ فَاِنۡ لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ ۫ وَ حَلَآئِلُ اَبۡنَآئِکُمُ الَّذِیۡنَ مِنۡ اَصۡلَابِکُمۡ ۙ وَ اَنۡ تَجۡمَعُوۡا بَیۡنَ الۡاُخۡتَیۡنِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ﴿ۙ۲۳﴾
অর্থাৎ!!      হারাম      করা      হয়েছে      তোমাদের      উপর  তোমাদের মাতাগণ, কন্যাগণ,  বোনগণ, ফুফুগণ,  খালাগণ, ভ্রাতুষ্পত্রীগণ, ভাগ্নীগণ,  তোমাদের ওই  সব        মাতা        যারা        (তোমাদেরকে)        দুধ        পান  করিয়েছে;         দুধ-বোনগণ,         তোমাদের         স্ত্রীদের  মাতাগণ,     তাদের   ঐসব     কন্যা    যারা   তোমাদের কোলে (লালন-পালনে)   রয়েছে- ঐসব  স্ত্রী থেকে, যাদের  সাথে তোমরা  সহবাস  করেছো।  অতঃপর যদি তোমরা তাদের সাথে সহবাস না করে থাকো, তবে তাদের  কন্যাদের    বিবাহ করার   মধ্যে কোন ক্ষতি   নেই,  তোমাদের  ঔরসজাত   পুত্রের    স্ত্রীগণ, এবং    দু’বোনকে     একত্রিত     করা;    কিন্তু    যা     হয়ে গেছে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
{{ সূরা নিসা আয়াত নং-23 }}

وَّ الۡمُحۡصَنٰتُ مِنَ النِّسَآءِ اِلَّا مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ۚ کِتٰبَ اللّٰہِ عَلَیۡکُمۡ ۚ وَ اُحِلَّ لَکُمۡ مَّا وَرَآءَ ذٰلِکُمۡ اَنۡ تَبۡتَغُوۡا بِاَمۡوَالِکُمۡ مُّحۡصِنِیۡنَ غَیۡرَ مُسٰفِحِیۡنَ ؕ فَمَا اسۡتَمۡتَعۡتُمۡ بِہٖ مِنۡہُنَّ فَاٰتُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ فَرِیۡضَۃً ؕ وَ لَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ فِیۡمَا تَرٰضَیۡتُمۡ بِہٖ مِنۡۢ بَعۡدِ الۡفَرِیۡضَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا ﴿۲۴﴾
অর্থাৎ:-    এবং  হারাম   সধবা  নারীরা  কিন্তু     (হালাল) কাফিরদের ওই সব স্ত্রী, যারা তোমাদের অধিকারে এসে     যায়;      এটা      আল্লাহ্‌র      লিপিবদ্ধ      (বিধান)  তোমাদের   উপর; এবং এসব ছাড়া   যারা  অবশিষ্ট আছে তারা তোমাদের জন্য হালাল (এ শর্তে) যে, নিজেদের অর্থের বিনিময়ে  তালাশ  করো (বিবাহ) বন্ধনে  আনতে,  যৌন কামনা চরিতার্থ করার জন্য নয়।  সুতরাং  যেসব  নারীকে  বিবাহাধীনে  আনতে  চাও তাদের নির্দ্ধারিত মহর তাদেরকে অর্পণ করো এবং        মহর      নির্দ্ধারণের       পর        যদি      তোমাদের পরষ্পরের  মধ্যে কোন  সন্তুষ্টি  প্রতিষ্ঠিত    হয়ে যায় তবে তাতে গুনাহ্‌ নেই।   নিশ্চয়   আল্লাহ্‌   জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়।
{{ সূরা নিসা আয়াত নং-24 }}

✴️উপরোল্লিখিত আয়াত দ্বয়ের মধ্যে আল্লাহ তাআলা পরিষ্কার ভাষায় সেই সমস্ত মহিলাদের কে উল্লেখ করেছেন যাদের কে আপনি বিবাহ করতে পারেন না এবং সেই সমস্ত মহিলাদের কেউ উল্লেখ করেছেন যাদের সঙ্গে আপনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন।
কুরআনুল মাজীদে যেভাবে বিবাহের ক্ষেত্রে যে সমস্ত নারীদের আপনি বিবাহ করতে পারবেন না এবং যে সমস্ত নারীদের কে আপনি বিবাহ বন্ধনে আনতে পারবেন উল্লেখ করা হয়েছে তেমনি হাদীস শরীফের মধ্যেও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লেখ করেছেন। নিম্নে তন্মধ্যে কিছু হাদিস প্রদত্ত হলো-

عَنْ الْبَرَاءِ قَالَ لَقِيتُ خَالِي وَمَعَهُ الرَّايَةُ فَقُلْتُ أَيْنَ تُرِيدُ قَالَ أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةَ أَبِيهِ مِنْ بَعْدِهِ أَنْ أَضْرِبَ عُنُقَهُ أَوْ أَقْتُلَهُ
অর্থাৎ!বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমর মামার সাথে সাক্ষাৎ করলাম তখন তার সাথে একখানা ঝান্ডা ছিল। আমি বললামঃ আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এমন এক ব্যক্তির নিকট পাঠিয়েছেন, যে ব্যক্তি তার পিতার মৃত্যুর পর তার পিতার স্ত্রীকে বিবাহ করেছে, তার গর্দন উড়িয়ে দেয়ার জন্য, অথবা তিনি বলেছেনঃ তাকে হত্যা করার জন্য।
{{ সুনানে নাসাঈ হাদিস নং-
{{ সুনানে দারেমী হাদিস নং-২২৭৮}}

عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرِيدَ عَلَى بِنْتِ حَمْزَةَ فَقَالَ إِنَّهَا ابْنَةُ أَخِي مِنْ الرَّضَاعَةِ وَإِنَّهُ يَحْرُمُ مِنْ الرَّضَاعِ مَا يَحْرُمُ مِنْ النَّسَبِ
অর্থাৎ! ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। হামযা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কন্যাকে বিবাহ করা সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হলে তিনি বললেনঃ সেতো আমার দুধ ভাই-এর কন্যা। আর বংশ সূত্রে যারা হারাম হয়, দুধ পান সম্পর্কেও তারা হারাম হয়।
{{ সুনানে নাসাঈ হাদিস নং-3319 }}

🤲 আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে উপরে উল্লেখিত নীতি ও কানুন অনুসরণ করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার শক্তি প্রদান করুন! আমীন!! বি-জাহি সাইয়েদিল মুরসালীন আলাইহিস্ব স্বালাতু ওয়াত তাসলীম।
💥وما توفيقي الا بالله العلي العظيم و الصلاة والسلام على رسوله الكريم صلى الله عليه و على اله و سلم💥

✍️⁩⁦মুফতী আমজাদ হুসাইন সিমনানী, প্রেসিডেন্ট সুন্নি মিশন✍️⁩
💫 থানা- কুশমন্ডি, জেলা- দক্ষিন দিনাজপুর, রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, ভারত💫

নোট:- কোন মসআলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদেরকেকমেন্ট করে জানাতে পারেন আমাদের
SIMNANI RESEARCH CENTRE & HOLY-WAY TEAM

সমাজের পাশে দ্বীনের খেদমতের জন্য সব সময় আছে।*আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য-এই লিংকে ক্লিক করুন*👇👇👇👇👇👇👇👇👇

www.keyofislam.com
আমাদের Real Sunni TvHoly way ইউটিউব চ্যানেল গুলি কে  SUBSCRIBE করুন

আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

This Post Has 5 Comments

  1. Humayun k

    আল্লাহ তাআলা কি অফ ইসলাম এর ডাইরেক্টর কে আরো বেশি বেশি ইসলামের খেদমত করার শক্তি প্রদান করুন।

  2. Amjad husain simnani

    আমার লেখনীটি আপনাদের ওয়েবসাইটে দেওয়ার জন্য শুকরিয়া ওয়েবসাইট আরো ভালোভাবে চলুক আমি তার জন্য দোয়া করছি।

  3. Abdullah

    Very important topic

  4. Simna

    Very important topic

  5. Sabir ahammed

    Mashallah