“প্রত্যেক বিদআত পথভ্রষ্ট কারী” এই হাদীসের গুঢ় রহস্য।

“প্রত্যেক বিদআত পথভ্রষ্ট কারী” এই হাদীসের গুঢ় রহস্য।

“প্রত্যেক বিদআত পথভ্রষ্ট কারী” এই হাদীসের গুঢ় রহস্য।

بسم الله الرحمن الرحيم
نحمده و نصلى على رسوله الكريم أما بعد-

عن العرباض بن سارية:] صلّى بنا رسولُ اللهِ ﷺ صلاةَ الصبحِ فوعظَنا موعظةً بليغةً ذرَفَتْ منها العيونُ ووجِلَت منها القلوبُ، فقيلَ: يا رسولَ اللهِ ! كأنَّها موعظةُ مودِّعٍ فأوصِنا، قال: عليكم بالسمْعِ والطاعةِ، وإنْ كان عبدًا حبشيًّا؛ فإنه من يعِشْ منكم فسيرى اختلافًا كثيرًا، فعليكم بسنَّتي وسنَّةِ الخلفاءِ الراشدينَ المهديِّينَ، عَضُّوا عليها بالنَّواجِذِ. وإيّاكم ومحدَثاتِ الأمورِ؛ فإنَّ كلَّ بدعةٍ ضلالةٌ
ابن عبد البر (ت ٤٦٤)، جامع بيان العلم ٢‏/١١٦٤ • ثابت صحيح • أخرجه أبو داود (٤٦٠٧)، والترمذي (٢٦٧٦)، وابن ماجه (٤٤)، وأحمد (١٧١٤٤)


অর্থাৎ: হযরত ইর্বাজ বিন সারিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফজরের নামাজ আমাদের পড়ালেন ,অতঃপর আমাদের ওয়াজ শোনাতে লাগলেন খুব গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজ, যার দরুন আমাদের চক্ষু সমূহ অশ্রসিক্ত হতে লাগল, আর হৃদয় গুলি বিগলিত হতে লাগলো। অতঃপর বলা হলো ইয়া রাসূলাল্লাহ!! মনে হয় এটি শেষ ওয়াজ বা বিদায় ওয়াজ। সুতরাং আমাদের কে অসীয়াত করুন। তখন নবিপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের প্রতি নির্দেশ শোনা ও পালন করা জরুরী, যদিও তোমাদের খলিফা বা হাকিম একজন কৃষ্ণবর্ণ হাবশী গোলাম হয়। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে তারা অতি সন্নিকটে অসংখ্য মতবিরোধ দেখবে। এমন পরিস্থিতি কালে তোমাদের প্রতি আমার সুন্নত ও আমার খোলাফায়ে রাশেদীন যারা হেদায়েত প্রাপ্ত তাদের সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা জরুরী। এমন পরিস্থিতিতে আমার খলাফা এ রাশেদীন এর সুন্নাত কে দাঁত দিয়ে শক্ত করে ধরবে । আর তোমরা নতুন আবিষ্কৃত বিষয় হতে দূরে থাকবে। কেননা প্রত্যেক বিদআত পথভ্রষ্টকারী। {আবু দাউদ শরিফ, তিরমিজি শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মুসনাদে আহমদ }
হাদিসের মান: সহীহউপরোল্লেখিত হাদিস হতে যা বুঝে আসলো তা হল, যথাক্রমে:1= ধর্মীয় নেতা বা হাকিম বা খলিফার নির্দেশ অবশ্যই পালনীয় যদিও সে হাবসি গোলামও হয়।
2: সেদিনের মজলিসে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরামগণ যারা দীর্ঘজীবী হয়েছিলেন তাদেরকে লক্ষ্য করে নবী পাক বলেছিলেন, তোমরা অসংখ্য মতবিরোধ দেখবে। অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম গণ যে মতবিরোধ গুলো দেখেছিলেন তা হল যথাক্রমে:1= যাকাত দেয়া থেকে ইনকার করা
2= নবীকে অস্বিকার করে মুরতাদ হওয়া।
3= এজিদ বাহিনী দ্বারা কাবা ঘরে আগুন লাগানো।
4= এজিদ বাহিনীর বর্বরতার চিত্র যেমন, মসজিদে নববীতে ঘোড়া বাধা, যার ফলে মসজিদে নববীতে তিনদিন ধরে আযান ও সালাত বন্ধ থাকে।
5= মদিনার পবিত্র মহিলাদের কে এজিদ বাহিনীর জন্য বৈধ ঘোষনা করা।
6= এজিদ বাহিনী দ্বারা মদিনায় গণহত্যা চালানো।
7= মুসাইলামা কাজ্জাবের নবী দাবি করা।
8= খারেজী সম্প্রদায়ের উদ্ভব যারা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর সৈন্যের সাথে যুদ্ধ করেছিল, ইত্যাদি ইত্যাদি।বন্ধুগণ মূলত এইরকম ঘটনাকে সামনে রেখে নবী পাক ইরশাদ করেছিলেন “কুল্লু বিদাতিন দলালা” অর্থাৎ :প্রত্যেক নব্য আবিস্কৃত ঘটনা পথভ্রষ্ট কারি। হাদিসের একটি অংশ বিশেষ শুধু বললে হাদিসের মর্মার্থ বুঝে আসবেনা। হাদিসের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা বুঝতে গেলে, পুরো হাদিসের প্রেক্ষাপটও বুঝতে হয় । তাই বলি, নবী পাকের উক্ত বানি দ্বারা ইসলামের মৌলিক বিষয় গুলির অন্তর্ভুক্ত কোন বিষয়ে নতুন করে কারসাজি করাকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। শাখাগত বিষয় এখানে উদ্দিষ্ট নয়। কারণ, শাখাগত বিষয় উদ্দেশ্য হলে, হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু রমজান মাসের তারাবি নিয়ে অতিরিক্ত নিয়ম প্রবর্তন করতেন না । হযরত উসমান গনি রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু জুমার দিনে দ্বিতীয় আযানের প্রবর্তন করতেন না । এমনই ভাবে হযরত আবু বাকার সিদ্দিক রদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কুরআন মাজিদ কে লিখিত আকারে একত্রিত করতেন না যা নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রকাশ্য জীবনে করেননি।এখানে একটি প্রশ্ন হতে পারে যে, খোলাফায়ে রাশেদীন এর তরিকা কে বেদাত বলা যাবে না। কারণঃ নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের তরিকার অনুমোদন দিয়েছেন ।
আমি বলব, আমরা কেন বিদআত বলবো, হযরতে ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু তিনি নিজেই বিদআত বলছেন, বুখারী শরীফ খুলে দেখতে পারেন-

نعمت البدعة هذه أو كما قال. ।

পরিশেষে বলতে হয় যে, ধর্মীয় ক্ষেত্রে নব আবিস্কৃত বিষয় যা সুন্নতের খণ্ডন কারি অথবা আকিদা সংক্রান্ত কোন নতুন ধারণা কে উদ্দেশ্য করে নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ক্ষতিকর দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রে নব আবিস্কৃত সে সমস্ত বস্তু যা শরীয়তের মূল ধারার অনুকূলে, তার পরোক্ষভাবে এই হাদিস দ্বারা অনুমোদন দিয়েছেন।

2= [عن جابر بن عبدالله وعائشة وعبدالله بن بسر:] من وقَّرَ صاحبَ بدعةٍ فقد أعان على هدمِ الإسلامِ.
العراقي (ت ٨٠٦)، تخريج الإحياء ٢‏/١١١ •
2= অর্থাৎ হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ, হযরত আয়েশা এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন বাশার রাদিয়াল্লাহু তা’আলা অনহুম হতে বর্ণিত, নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি বেদাতি মানুষের সম্মান করলো সে যেন ইসলাম- ধ্বংসের প্রতি সাহায্য করলো।
বন্ধুগণ!! সাহাবায়ে কিরাম কি এই ধরনের মারাত্মক পাপের কাজ করতে পারেন, যদি বেদাতের এই পরিনাম হয় তাহলে বেদাতের সূক্ষ্ম ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে, যাতে করে নবী পাকের বাণী এবং সাহাবায়ে কেরামের কর্মকাণ্ডের মধ্যে মিল বা সামঞ্জস্য রক্ষা করা সম্ভব হয়, আর তাই করেছেন আইম্মা কিরাম গণ বেদাতের শ্রেণীবিন্যাস করে।
اسعدكم الله تعالى فى الدارين.
وما توفيقي الا بالله تبارك وتعالى

মুফতী আব্দুল জালীল রাঈসুদ্দীন, মিলকী, মালদা, ভারত।

হোমপেজে যাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

keyofislam.com

www.holyway.co.in

Leave a Reply

This Post Has 4 Comments

  1. Aysha

    Asob bishoike sposto korar proyojon Chilo.
    Thanks

  2. Abdullah

    Apnar post gulo khub juktipurn o sothith pother Disha prodan kar.

    Tai amader aro beshi beshi post din.