স্বামীর কর্তব্য: স্ত্রীকে অন্যায়ভাবে দূরে সরিয়ে না রাখা
🏵️💙 স্বামীর কর্তব্য: স্ত্রীকে অন্যায়ভাবে দূরে সরিয়ে না রাখা 💜🏵️
সম্মানিত সুধী! ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। স্বামীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য হলো— স্ত্রীকে অন্যায়ভাবে দূরে সরিয়ে না রাখা এবং তার বৈবাহিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না করা। কোনো শরয়ী কারণ ছাড়া স্ত্রীকে দীর্ঘদিন পরিত্যাগ করে রাখা, তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় (না স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করা, না তালাক দেওয়া) রেখে দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না।
💠আল্লাহ তা'লা ইরশাদ করেন—
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
অনুবাদ: তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণের ভিত্তিতে জীবনযাপন করো।
{{ সূরাহ আন-নিসা-৪ আয়াত নং-১৯}}
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, স্বামীর ওপর স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করা আবশ্যক। স্ত্রীকে বিনা কারণে দূরে সরিয়ে রাখা, তার প্রতি অবহেলা করা, মানসিক কষ্ট দেওয়া ও তার শারীরিক চাহিদার প্রতি খেয়াল না রাখা এই নির্দেশনার পরিপন্থী।
💠আরও ইরশাদ হয়েছে—
فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ
অনুবাদ: সুন্দরভাবে (স্ত্রীকে) রেখে দাও, নতুবা উত্তমভাবে বিদায় করে দাও।
{{ সূরাহ আল-বাকারা-২ আয়াত নং-২২৯}}
অর্থাৎ, স্ত্রীকে যদি সংসারে রাখা হয়, তবে সম্মান ও সদ্ব্যবহারের সঙ্গে রাখতে হবে। আর যদি সংসার চালানো সম্ভব না হয়, তবে তাকে অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে না রেখে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সুন্দরভাবে বিচ্ছেদ করতে হবে।
💠 রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ
তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের (স্ত্রীর) প্রতি সর্বোত্তম।
{{ সুনানে তিরমিযী হাদীস নং-৩৮৯৫}}
এই হাদিস প্রমাণ করে যে, স্ত্রীর প্রতি সদাচরণ, তার মানসিক প্রশান্তির খেয়াল রাখা এবং তাকে অবহেলা না করাই একজন উত্তম স্বামীর পরিচয়।
ইসলাম স্বামীকে স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, নিরাপত্তা, মানসিক শান্তি এবং দাম্পত্য অধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। যদি কোনো স্বামী অহংকার, রাগ বা অন্যায়ের কারণে মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর স্ত্রীকে দূরে রাখে, তবে সে স্ত্রীর অধিকার নষ্ট করে।
বিশেষ করে, দাম্পত্য জীবনে শারীরিক ও মানসিক সান্নিধ্য উভয়ই স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার। এ অধিকার থেকে স্ত্রীকে বিনা কারণে বঞ্চিত করা বৈবাহিক সম্পর্ককে দুর্বল করে এবং পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই স্বামীর উচিত, কোনো সমস্যা দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা; দীর্ঘদিন সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রেখে পরিস্থিতিকে জটিল করা কোনভাবেই কাম্য নয়।
ইসলামী সমাজব্যবস্থায় পরিবারকে রক্ষা করার অন্যতম উপায় হলো স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার যথাযথভাবে আদায় করা।
পরিশেষে বলা যায়, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোবাসা, দয়া ও পারস্পরিক সুসম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একজন আদর্শ স্বামী কখনোই স্ত্রীকে অন্যায়ভাবে দূরে সরিয়ে রাখে না বা তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে না।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর নির্দেশনা অনুযায়ী স্ত্রীর সঙ্গে সদাচরণ করা, তার মানসিক ও শারীরিক চাহিদার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং অকারণে তাকে পরিত্যাগ না করাই একজন ঈমানদার ও আদর্শ স্বামীর কর্তব্য। এতে সংসারে শান্তি, ভালোবাসা ও আল্লাহর রহমত নেমে আসে।
والله اعلم بالصواب
✍️খাদিমুল হাদীস মুফতী আমজাদ হুসাইন সিমনানী সাহেব
🌏Assistant teacher of Pathardanga Osmania High Madrasah 🌏
Comments -